জয়পুরহাট

স্কোয়াস সবজী চাষ করে ভাগ্য বদলেছে জয়পুরহাটের আনোয়ারের

By ওয়ান নিউজ বিডি

February 19, 2018

চঞ্চল বাবু, (কালাই) জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহম্মোদাবাদ ইউনিয়নে উত্তর-ভাবকি গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২২)। গত ৩ বছর যাবৎ অন্যের ৭ শতক জমি বর্গা নিয়ে সেই জমিতে অতি পুষ্টিকর, সু-স্বাদু ও লাভ জনক শীতকালীন বিদেশী জাতের স্কোয়াস সবজি চাষ করে সফল চাষী হিসাবে এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তার ক্ষেতে স্কোয়াসের ভালো ফলন হওয়ায় এবং বাজারে স্কোয়াসের দাম ভালো থাকায় তিনি স্কোয়াস বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করছেন। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য কৃষক ও কৃষাণীরা স্কোয়াস চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, এক সময় আনোয়ার হোসেন অন্যের বাড়ীতে সারাদিন হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও তার সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। তার পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মাত্র ১২ শতক জমি আছে। সেই জমির উপর আছে মাথা গোঁজার মত একটা কুঁড়ে ঘর। তার পরিবারের সদস্য হিসেবে বাবা-মা আর তিন ভাই-বোন। আনোয়ার পরিবারের বড় ছেলে। অভাব অনটনের সংসার আর টাকার অভাবে আনোয়ার বেশি লেখাপড়া পর্যন্ত করতে পারেননি। তিনি সব সময় অসহায়ের মতো দিন যাপন করতেন, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল কি ভাবে তার সংসারের স্বচ্ছলতা আনা যায়। এমতাবস্থায়, প্রতিবেশী আব্দুল সামাদ মন্ডল তার নিজ জমিতে স্কোয়াস রোপন করেন। পরে সেখান থেকে তিনি অনেক ভালো ফলন পায়। তার সফলতা দেখে জয়পুরহাট রানা বীজ ভান্ডার থেকে বেশ কয়েকটি স্কোয়াসের বীজ চড়া দামে কিনে নিয়ে আসে আনোয়ার হোসেন। সেই বীজ দিয়ে গত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ধার দেনা করে বর্গা নেওয়া মাত্র ৭ শতক জমিতে বিদেশী স্কোয়াস জাতের সবজি চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে স্কোয়াস বিক্রি করে তিনি প্রায় ২৫ হাজার আয় করেন। সেই থেকে প্রতি বছরে নভেম্বর মাসে ওই ৭ শতক জমিতে স্কোয়াস চাষ করছেন। এবারেও তিনি উপজেলার বড়গারা পুকুর পাড়ে ওই ৭ শতক জমিতে শীতকালীন বিদেশী স্কোয়াস সবজি চাষ করেছে। তার ওই ৭ শতক জমিতে স্কোয়াস চাষের জন্য খরচ হয়েছে মাত্র ২০০০ হাজার টাকা। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাট-বাজারে এক থেকে দুই কেজি ওজনের প্রতি পিস স্কোয়াস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে ১ বার করে ক্ষেত থেকে স্কোয়াস তুলে বিক্রি করেন। গত ২ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত তিনি স্কোয়াস বিক্রি করেছেন ৩০০ পিচ, যা বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। আগামী ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি ওই স্কোয়াস বাজারে বিক্রি করবেন। এরপর সময় অনুযায়ী ওই জমিতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজী চাষ করবেন।

কালাই উপজেলার উত্তর-ভাবকি গ্রামের স্কোয়াস চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, স্কোয়াস বিক্রি করে প্রতি বছরে ২৬ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেছি। আশা করি এবারও আগের মতো ভালো লাভ হবে। বর্তমান চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে অন্য ফসল রোপন করেছি। এখন আমার সংসারে আর্থিক ভাবে আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছলতা এসেছে। পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে খুব সুখে শান্তিতে দিন যাপন করছি।

উত্তর-ভাবকি গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, ধান ও আলু চাষ করে প্রতি বছর আমার অনেক লোকসান হয়েছে। আনোয়ারের মতো আমিও ২০ শতক জমিতে স্কোয়াস চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম বলেন, স্কোয়াস আসলে বিদেশী জাতের শীতকালীন সবজি এবং অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। এটি লাউ গোত্রের সবজি। অন্য ফসলের চেয়ে স্কোয়াস চাষের খরচ অনেক কম। এটি রোপনের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফুল ধরে এবং ফুল ধরার ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ পর স্কোয়াস সবজী সংগ্রহ করা যায়। তবে একটু পরিচর্যা করলে বেশী ফলন পাওয়া সম্ভব।