ফরিদপুরে পুলিশের বাধায় বিএনপির বিক্ষোভ পণ্ড, আহত ২০

bnp micile

bnp micileফরিদপুর: ফরিদপুরে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গোলাগুলিতে বিএনপির অন্তত ৪০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পণ্ড হয়ে গেছে বিক্ষোভ কর্মসূচি।

মঙ্গলবার ফরিদপুর সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণ, টাউন থিয়েটার হল, ডা. জাহিদ মোমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, ফরিদপুর প্রেসক্লাবসহ মুজিবসড়ক এলাকার এ ঘটনায় সময় আহত হয়েছেন দুইজন সাংবাদিকও।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার পর সেখান থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে।

দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় প্রেসক্লাবের সদস্যরা তাৎক্ষণিক জরুরি সভা করে তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দায়ী পুলিশ সদস্যের শাস্তি দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুপার মার্কেট এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। পৌনে ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ একটি বড় মিছিল নিয়ে শিশু হাসপাতালের দিকে থেকে সুপার মার্কেটের সামনে আসেন। বিএনপির চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এসময় কোতয়ালী থানা পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়।

এক পর্যায়ে জমায়েত হওয়া অন্যদের নিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি মিছিল প্রেসক্লাবের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পুলিশের লাঠিপেটায় দলের সিনিয়র কয়েক নেতা রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাদের ওপর ফের হামলা চালানো হয়।

পরে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি।

এদিকে পুলিশের লাঠিপেটার ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হন কালের কন্ঠের প্রতিনিধি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শংকর ও নয়াগিদন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি হারুন আনসারী রুদ্র। পুলিশ এ দুই সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তাদের লাঠি ও শটগান দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

স্থানীয়রা পরে ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। নির্মলেন্দু চক্রবর্তী শংকরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও হারুন আনসারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশের লাঠিপেটা থেকে রেহাই পাননি শিশু হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে নিরাপদে চলে যান।

পুলিশ বিক্ষোভ মিছিল থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, থানা বিএনপির সভাপতি রউফউন্নবী, বাবুল তালুকদার, লিটন বিশ্বাস, মাসুদ হোসেনসহ ২০ জনকে আটক করে।

অপরদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়ার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়।

এছাড়া দুই সাবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দুপুরে জরুরি সভায় মিলিত হন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা। ক্লাব সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের সভাপতিত্বে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি তুলে ধরা হয়।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আসেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সরকারের পতন না ঘটানো পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবো না।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন জানান, বিএনপি অনুমতি ছাড়া বেআইনি সমাবেশ করার উদ্যোগ নিলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের তিনটি সেল, শটগানের ১০টি ফাঁকা গুলি করে।

ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

news portal website developers eCommerce Website Design