‘নরকের দুয়ারের’ রহস্যভেদ করলেন বিজ্ঞানীরা

ancient goha

ancient gohaডেস্ক রিপোর্ট: প্রায় দুই হাজার বছর আগের একটি গ্রেকো-রোমান মন্দিরের ভয়ে শহরের বাসিন্দারা তটস্থ হয়ে থাকত। বর্তমান তুরস্কে অবস্থিত মন্দিরটির পাথুরে ফটক পেরোলেই একটি ভারি কুয়াশায় ঢাকা গুহায় অশুভ শক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যেত। গুহার ভেতরে পাঠানো গরু-মোষ শুয়ে পড়ে ছটফট করে মরে যেত, কিন্তু মন্দিরের খোজা পুরোহিতের কিছু হতো না।

কেউ বলত, পাতালের রক্তপিপাসু দেবতা প্লুটো সেখানে বিরাজ করছেন। কেউ বলত পুরোহিত অতিপ্রাকৃত শক্তিতে এই কাজ করছেন।

কিন্তু, সম্প্রতি আর্কিওলজিকাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপলজিকাল সাইন্সেস-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এর খুব পার্থিব একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, গুহার ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসই বিভিন্ন প্রাণীর মৃত্যুর জন্য দায়ী।

আগ্নেয়গিরীর প্রাণীকুল গবেষক হার্ডি পফ্যাঞ্জ একদল বিজ্ঞানী নিয়ে গুহাটি পরীক্ষা করেন। গুহা থেকে নিঃসৃত গ্যাস ওই এলাকার গভীর একটি ফাটল থেকে উঠে আসত। সেখানে মাটি থেকে যত নিচে যাওয়া হয়, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে।

ভূপৃষ্ঠে থাকা গুহামুখের বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৪% এবং সেখান থেকে নিচে যেতে থাকলে তা একসময় ৫৩%-এ গিয়ে পৌঁছয়।

গ্যাস পরীক্ষা করার একটি বহনযোগ্য যন্ত্র নিয়ে বিজ্ঞানীরা মন্দিরে গিয়ে দেখেন, গুহার যত গভীরে যাওয়া যায় মারাত্মক কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে।

কার্বন ডাই অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারি, একারণে তা যেকোনো স্থানে অক্সিজেনের নিচে জমা হয়। কোনো বাড়িতে কার্বন ডাই অক্সাইড লিক করলে সেখানকার উপরের তলাগুলোর চাইতে বেসমেন্ট বেশি ক্ষতিকারক হয়।

যেসব প্রাণীর নাক-মুখ মাটির কাছাকাছি, সেগুলো এভাবে জমে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেশি গ্রহণ করে। কিন্তু ঠিক তাদের পাশে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের নাক মাটি থেকে উপরে থাকার কারণে তাদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই গ্যাস শরীরে বেশি প্রবেশ করে না।

২০১৩ সালে তুরস্কের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের পামুকালেতে পুনঃআবিষ্কৃত গুহাটি প্রাচীনকালে হিয়েরাপোলিসের অংশ ছিল। রোমান দেবতা প্লুটোর নামে গুহাটির নামকরণ করা হয়েছিল প্লুটোনিয়াম।

খন মানুষের ধারণা ছিল- এটি পাতালের নরকে যাওয়ার প্রবেশপথ। সেখানে পশু বলি দিলে দেবতাকে সন্তুষ্ট করা যায় বলে মনে করত তারা। পশু বলি দেয়ার সময় তা দেখতে সেখানে অনেক মানুষ জমা হত।

গ্রিক ভূগোলবিদ স্ট্র্যাবোর গুহাটির বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখেন, ‘এই জায়গাটার বাস্প এত বেশি ঘন যে মাটি প্রায় দেখাই যায় না। ষাঁড় সেখানে নিয়ে ঢুকলে মাটিতে পড়ে যায়। বের করে আনলে দেখা যায় ওটা মরে গেছে।’

গুহায় পুরোহিতরা প্রবেশ করলেও স্ট্র্যাবো লক্ষ্য করেন, ‘তারা যতক্ষণ সম্ভব তাদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখেন।’

ইউনেস্কো বর্তমানে জায়গাটিকে গরম জলের ঝর্নার পর্যটনস্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু, দুই হাজার বছর পরেও জায়গাটিতে যাওয়া পর্যটকদের সাবধান থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৩ সালে খনন কাজ চালানোর সময় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা দেখতে পান গুহার গভীরে প্রবেশ করলে অনেক পাখি মারা যায়।

news portal website developers eCommerce Website Design