হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়ি

matir bari

চঞ্চল বাবু: জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক মাটির বাড়ি। গ্রামাঞ্চলের শান্তির নীড় খ্যাত মাটির দেওয়াল আর টিনের ছাউনির বাড়িগুলি এখন কালের বিবর্তনে দেশের উন্নয়নের ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মাটির বাড়ির বদলে তৈরী হচ্ছে ইট সিমেন্ট রড দিয়ে তৈরি দালান কোঠা। কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার সর্বত্র গ্রামাঞ্চলের চিত্র এখন এমনই।

matir bariসরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লার অধিকাংশ মাটির বাড়ি, এসব বাড়ির টিনের ছাউনি হলেও কোনটি একতলা আবার কোনটি দু’তলা নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রাম এলাকার বসবাসরত সাধারণ মানুষের ধারণা মাটির বাড়ি বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরাম দায়ক। মাটির বাড়িগুলি তৈরীর সময় কোন প্রকৌশলী ছাড়াই সাধারন কৃষক শ্রেণির মানুষ সহজেই এসব মাটির বাড়ি নির্মাণ করতে পারেন।

মাটির বাড়ি তৈরীর কাড়িগর (বাটালু) উপজেলার জামুড়া গ্রামের খোঁকা, বাসুড়া গ্রামের হাফিজার, থুপসাড়ার আবু কালামসহ অনেকে জানান, মাটির বাড়ি সাধারণত দো-আঁশ মাটি দিয়ে তৈরী করা হয়।

এ জন্য প্রয়োজনীয় মাটি আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং যথা সময়ে তৈরী করা হয় বাড়ির কাঠামো। আগে থেকে সংগ্রহ করা মাটি পানিতে ভিজিয়ে এক-দু’দিন পর ওই মাটি কোদাল দিয়ে কুচিয়ে এবং পা দিয়ে দলে মন্ড তৈরী করা হয়। এভাবে প্রস্তুত করা মাটির মন্ড দিয়ে এক ফুট উঁচু ও দুই ফুট চওড়া বাট বা গাঁথুনি দেওয়া হয়। এ ভাবে সাত থেকে আট দিন পরপর পর্যায়ক্রমে গাথুনি দিয়ে দেওয়াল নির্মাণ শেষ করা হয়। একতলা বাড়ির জন্য ১৪ থেকে ১৫টি এবং দু’তলা বাড়ির জন্য ২৫ থেকে ২৬টি গাঁথুনির প্রয়োজন হয়। গাঁথুনি শেষে সাধারণত তাল গাছের বর্গা বা আড়কাঠ আড়া আড়িভাবে সাজিয়ে তার উপরে লম্বা লম্বিভাবে বাঁশ বিছানো হয়। এরপর বাঁশ বিছানোর উপরে আলতোভাবে মাটির মন্ড দিয়ে নির্মাণ করা হয় তলা। দেওয়াল নির্মাণ শেষে খড় বা টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হয় মাটির বাড়ির।

গ্রামাঞ্চলের অনেকেই জানান, গরমের সময় মাটির বাড়ির ঘরের ভিতরে ঠান্ড থাকে, আবার ঠান্ডর সময় ঘরের ভিতরে অনেকটা গরম থাকে। এছাড়া মাটির বাড়িতে ভূ-কম্পনে সহজে ভেঙে পরেনা। নির্মাণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম হয়।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]