পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু, জানাজায় বাধা

samsul hossen

samsul hossenমৌলভীবাজার: আন্তার্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের দেয়া রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজনগর উপজেলার যুদ্ধাপরাধী সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ (৬৫) মৃত্যুবরণ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ দিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার কর্ণিগ্রামে জানাজার নামাজের আয়োজন করা হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী শক্তির লোকজন তাতে বাধা দেন। পরে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত থাকার ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ১৮ জনকে হত্যা-গণহত্যা, নির্যাতন এবং ২২টি বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের প্রমাণ পান আদালত।

২০১৪ সালে এদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে প্রশিকিউশন। পরে ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরওয়ানা জারির পর ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওজায়ের আহমদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা ও আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মৌলভী ইউনুছ আহমদকে সোনাটিকি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রাজনগর থানার পুলিশ।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত রাজনগর উপজেলার জামুরা গ্রামের মৃত ফরজান আলীর ছেলে নেছার আলী (৭৫) ও গয়াসপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূর চৌধুরীর ছেলে ওজায়ের আহমদ চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অপর আসামি রাজনগর সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা গ্রামের মৃত আত্তর মিয়া তরফদারের ছেলে সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ (৬৫), সোনাটিকি গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে মৌলভী ইউনুছ আহমদ (৭১) ও উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে মোবারক মিয়াকে (৬৬) আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। ওই মামলায় ইউনুস আহমদ ও ওযায়ের আহমদ চৌধুরী জেল হাজতে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক। পলাতক থাকাবস্থায় সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ (৬৫) বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে যুদ্ধাপরাধী সামছুল হোসেন তরফদার নতুন বাড়ি করে সদর ইউনিয়নের কর্ণিগ্রামে এসেছিলেন। শুক্রবার কর্ণিগ্রামের জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর জানাজার জন্য লাশ নিয়ে যাওয়া হলে উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ও স্বপক্ষীয় শক্তির বাধার মুখে সেখানে আর জানাজা হয়নি। পরে রাজনগর থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মরহুমের আমুড়া গ্রামের পুরান বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. আছকির খান বলেন, আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীর জানাজায় অংশগ্রহণ করা মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর জন্য গৌরবের নয়। সে এই এলাকার অভিশাপ।

রাজনগর থানা পুলিশের ওসি শ্যামল বণিক জানান, সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সামছুল হোসেন তরফদার দীর্ঘদিন থেকে পলাতক থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

news portal website developers eCommerce Website Design