মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বে কালাইয়ে আধা-কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি বাসস্ট্যান্ড

kalai news

চঞ্চল বাবু, কালাই (জয়পুরহাট): কালাই উপজেলার জয়পুরহাট-মোলামগাড়ী-বগুড়া সড়কের মোলামগাড়ীহাট এলাকায় মাত্র অর্ধ-কিলোমিটার দূরত্বেই গড়ে উঠেছে ‘বগুড়া’ ও ‘জয়পুরহাট’ নামে পৃথক দুটি বাসস্ট্যান্ড। ভুক্তভোগীরা জানান, জয়পুরহাট-বগুড়া বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বই এর প্রধান কারণ।

kalai newsমটর চালক, সুপারভাইজার ও চেইন মাস্টারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মোলামগাড়ীহাটে অনেক আগে থেকেই দুই জেলার বাস থাকত বগুড়া বাসস্ট্যান্ডে। মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে বর্তমানে অর্ধ-কিলোমিটার দূরত্বে মোলামগাড়ীহাটের পশ্চিম পাশের বটতলা এলাকায় গড়ে ওঠেছে ‘জয়পুরহাট’ অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিরক্তিকর যানজট ও দুর্ঘটনা। দেখা দিচ্ছে জনদুর্ভোগ। নতুন বাসস্ট্যান্ডে গণশৌচাগার না থাকায় বাসের চালক ও শ্রমিকসহ যাত্রী সাধারণদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, মোলামগাড়ীহাটের বটতলার অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডে যানজট লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এ অবস্থার অবসান চান তারা।

জয়পুরহাট শ্রমিক ইউনিয়নের বাস চালক মাসুম ও সুপার ভাইজার জাহিদ জানান, মোলামগাড়ীহাটের বটতলা অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডে কোন গণশৌচাগার নাই। তাই খোলা মাঠে জরুরী প্রয়োজন সারতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। যাত্রী সাধারণদের অবস্থাও অনুরূপ বলে জানান তারা।

স্থানীয় চেইন মাস্টার আমিরুল ইসলাম জানান, পাশাপাশি দুটি বাসস্ট্যান্ডের কারণেই যানজটসহ জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা জেলা মটর মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তাদের গড়িমসির কারণে সমস্যার সমাধান হয়নি।

জয়পুরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, জয়পুরহাট ও বগুড়া বাস মালিক সমিতির ঐক্যই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।

বগুড়া জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বের বিষয় অস্বীকার করে জানান, তাদের বাসস্ট্যান্ড অনেক পুরাতন। জয়পুরহাট বাস মালিক সমিতি আগে এটাই ব্যবহার করেছেন, চাইলে এখনো ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, যানজট, দুর্ঘটনা বা জনদুর্ভোগসহ সকল সমস্যার মূলেই রয়েছে নতুন বাসস্ট্যান্ড।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আনিছুর রহমান লিটনের মুঠোফোনে গত দু’দিন থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমার অজানা ছিল। জনগণের সার্থে আইনের মাধ্যমেই এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]