জয়পুরহাট

কালাইয়ে জাল দলিল সৃষ্টির বিষয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

By ওয়ান নিউজ বিডি

March 14, 2018

ষ্টাফ রিপোর্টার: কালাইয়ে জাল দলিল সৃষ্টি করে অবৈধ ভাবে জমি দখল করায় আদালতে দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এর দীর্ঘদিন পরে অবশেষে সেই জাল দলিল সৃষ্টির বিষয়ে নাবালক উল্লেখ করে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইকবাল বাহারের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে কালাই থানা পুলিশ।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেই ভুয়া দলিল সৃষ্টির দিনে দলিল দাতার বয়স ২১ বছর দেখানো হয়েছে কিন্তু সেই সময় অত্র মামলার বাদী আবু নাসের মোছাদ্দেকুল ইসলামের টিকা কার্ড, জন্ম সনদ, ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১৭ বছরও পুর্ণ হয়নি যাহা নাবালক। কিন্তু একজন নাবালক সন্তান কিভাবে দলিল দাতা হয় এমন অভিযোগ তোলেন অনেকেই। আর তৎকালীন কালাই উপজেলার সাবরেজিষ্টার জহুরুল ইসলাম থাকাকালে এবং তার স্বাক্ষরে এই ভুয়া জাল দলিল সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট জেলা সদর সাবরেজিষ্টার এর দায়িত্বে আছেন। এমন কাজ যেন আর কেউ না করতে পারেন সেই জন্যে সাব-রেজিষ্টারসহ প্রতারক বদিউজ্জামান ও শহিদুল ইসলামের শাস্তি দাবী করেন এলাকার সচেতন মহল।

প্রতারক বদিউজ্জামানের ভাতিজা রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, সে এলাকার কুখ্যাত একজন ভুমিদস্যু। তাকে সবাই ভূমিদস্যু হিসেবেই চিনেন। এমন কাজ তার নতুন নয়, আমাদেরও আড়াই বিঘা জমির জাল দলিল সৃষ্টি করে জোরপূর্বক ভোগ-দখল করেছিল। পরে সেই জমি ফেরতও দিয়েছে। তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।

মামলার বাদী আবু নাসের মোছাদ্দেকুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আশাকরি আদালতে ন্যায় বিচার পাবো এবং খুব দ্রুত জমি ফেরৎ পাব।

উল্লেখ্য, উপজেলার বাদাউচ্চ গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের নাবালক ছেলে আবু নাসের মোছাদ্দেকুল ইসলামের নামে তার দাদা আকালু প্রামানিক ৩৪ শতক জমি দানপত্র দলিল মুলে লিখে দিয়েছেন। দাদার মৃত্যুর পর ওই জমির দেখাশুনার দায়িত্ব নেন নাবালকের বাবা। একই গ্রামের আনছের আলীর ছেলে বদিউজ্জামান ও আয়মদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলামের নিকট ফসলের কিছু অংশ প্রদানের শর্তে ওই জমি মৌখিক ভাবে বর্গা রেখে বিদেশে যায় বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন। সেই সুবাদে বর্গাচাষী বদিউজ্জামান ও শহিদুল ইসলাম মিলে ২০০৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর জমির প্রকৃত মালিক নাবালক আবু নাসের মোছাদ্দেকুল ইসলামের পরিবর্তে অন্য একজনকে দাতা বানিয়ে ৪১৩২ নম্বর একটি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে তার কপি জমির মুল মালিকের পরিবারকে দেখায় এবং নিজেদের মালিকানা দাবী করেন। তখনও জমির মালিক জানেনা তার জমি বিক্রি হয়েছে। টিকা কার্ড ও জম্ম সনদ অনুযায়ী ওই নাবালকের জন্ম তারিখ ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী। তখন নাবালকের বয়স ১৭ বছরও পূর্ন হয়নি। অথচ জাল দলিল সৃষ্টির দিনে তার বয়স ২১ বছর দেখানো হয়েছে। নিরুপায় হয়ে জমির প্রকৃত মালিক জাল দলিল বাতিল চেয়ে ওই দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৫৫ অন্য। এছাড়া প্রতারনা এবং জালিয়াতি করায় তাদের শাস্তি চেয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলা নম্বর ০৫পি/১৭।