বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি নিউ ইয়র্কে

mather toung

mather toungডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবির উত্থাপনের মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস। স্থানীয় সময় ২৫ মার্চ বিকেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক আবহে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যায় নিহত শহীদদের বিন্ম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়। নিউ ইর্য়ক প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফ্রেন্ডস্ অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ডেভিড নালিন এবং একই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী ডেভিড উইচবোর্ড, কসোভোর কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত মিজ্ টেউটা সাহাতকুইজা, ভারতের কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ম্যাক্সিম এ. পেন্সকি ও ড. নাদিয়া রুবাই, নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটের জ্যাকসান হাইটস্থ কলম্বিয়া-আমেরিকান প্রার্থী এবং নিউ ইয়র্ক ডেপুটি মেয়রের সাবেক উপদেষ্টা জ্যাসিকা র‌্যামস, ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অ্যালায়েন্স’র সভাপতি লর্ড লিওমার বি. প্রম্পিরাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কূটনীতিকরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বের কাছে নৈতিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে হেরে গিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকার বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালিয়েছিল। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয় ৩০ লাখ মানুষ। দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়। প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয় নেয় ভারতে।

কসোভোর কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত মিজ্ টেউটা সাহাতকুইজা বলেন, ‘এটি শুনতে আমাদের যেমনই লাগুক কিন্তু অবশ্যই গণহত্যার সেই ভয়াবাহ ঘটনাগুলোকে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। আমি এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত মাসুদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই জোনোসাইডের আর কখনোই যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ গণহত্যা প্রতিরোধে সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত টেউটা। তিনি তাঁর দেশ কসোভোতে সংঘটিত গণহত্যার মর্মস্পর্শী বর্ণনা তুলে ধরেন।

ভারতের কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাংলাদেশে যে বর্বরতম গণহত্যা সংঘটিত করেছিল আমি সেই বেদনাদায়ক ঘটনা স্মরণ করছি এবং আজকের এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছি। ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে নির্মম গণহত্যা শুরু করার কারণেই ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল।’

বাংলাদেশের গণহত্যা কেন আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত হয় নাই- এমন প্রশ্ন টেনে তিনি বলেন, ‘এর কারণ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভিন্ন মেরুর রাজনীতি শুরু হয় দেশটিতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালে গণহত্যা দিবস পালনের যে প্রস্তাব পাশ করেছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সংঘটিত ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতিদানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ম্যাক্সিম এ. পেন্সকি বলেন, ‘গণহত্যা দিবস পালন শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয় এটি বিশ্বের সকল নাগরিকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বিভৎস কাহিনীকে সবারই মনে রাখা উচিত। গণহত্যা সংগঠনকারী কোনো অবস্থায়ই আইনের থেকে পার পেতে পারেন না। এই ঘৃণ্যতম অপরাধের জন্য তাকে/তাদেরকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রফেসর পেন্সকি তাঁর বক্তৃতায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে বাংলাদেশের গণহত্যার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

ফ্রেন্ডস্ অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু ডেভিড নালিন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ওই সময় তাঁর বাংলাদেশে অবস্থানকালীন ভয়াবাহ গণহত্যা নিজ চোখে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

news portal website developers eCommerce Website Design