গাইবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত শুরু

gaibandha map

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলায় জরিয়ে হয়রানির ঘটনায় গাইবান্ধার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো: শাহরিয়ার ও এস আই মমিরুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব ও প্রতিবাদী সাংবাদিক জাভেদ হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়াটার্সসের মহা-পুলিশ পরিদর্শকের ( আইজিপি) নির্দেশে ডিসিপ্ললন এন্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিককে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রর শুরু হয়েছে।

কোন তদন্ত ছাড়াই তৎক্ষনাত মামলা রুজু করে হয়রানি করায় ঢাকাটাইমসের সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য সচিব, জাভেদ হোসেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি ও এক এসআই-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক-এর (আইজিপি) কমপ্লেইন শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

গত ২২ফেব্রুয়ারী তিনি পুলিশ হেডকোয়াটার্সে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আইজিপির কমপ্লেইন শাখায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জাভেদ হোসেনের বাবা মৃত. নিজাম উদ্দিন ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত তৎকালীন বিল্ডিং ডিভিশন থেকে একটি দোকান ঘর লিজ নেয়। যা পুরাতন জেল খানার (বর্তমানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল) পশ্চিম পাশের অবস্থিত। তার পাশে পুরাতন জজ কোর্ট তৎকালীন মুনসেফ কোর্ট-এর জায়গায় মাহাবুবুল আলমের মারিয়া বেকারী নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গত ০৫.০২.১৮ইং তারিখে মাহাবুবুল আলম তার সন্ত্রসী বাহিনী নিয়ে নিজাম উদ্দিনের দোকানের পিছনের জায়গা প্রাচীর দিয়ে দখল নেয়ার সময় জাভেদ হোসেন থানায় অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের আলোকে গাইবান্ধা সদর থানার এসআই মমিরুল হক ওসি ইনচাজ খান মোঃ শাহরিয়ারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহাবুবুল আলমের দখলের কাজ বন্ধ করে থানায় কাগজ নিয়ে আসতে বলেন। তার কিছুক্ষন পর মাহাবুবুল আলম তার অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করে দখলের কাজ পূনরায় শুরু করেন। পূনরায় কাজ শুরুর খবরে সাংবাদিক জাভেদ আবার ওসি কে বিষয়টি বললে ওসি তাকে এসআই মমিদুল কে জানাতে বলেন।
সাংবাদিক জাভেদ মমিদুলকে বিষটি ফোনে বললে এসআই সেখানে যেতে অপারগতা স্বীকার করে বলেন, একজন নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু) আমাকে ফোন করে ওখানে যেতে নিষেধ করেছে সে সাংবাদিক জাভেদকে থানায় দেখা করতে বলে। জাভেদ হোসেন থানায় গিয়ে ওসি তদন্ত আরশেদুল হক কে বিষয়টি জানালে তিনি সেই নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু) কে মামা সম্বোধন করে মাহাবুবুল আলমের দোকানের কাগজ থানায় পাঠাতে বলেন! এক ঘন্টা সাংবাদিক জাভেদ থানায় অবস্থান করলেও মাহাবুবুল আলম তার দোকানের লীজকৃত কাগজ আনতে ব্যার্থ হন।

সে সময় সাংবাদিক জাভেদের ছোট ভাই জিহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে দখলে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রড, হাতুরী দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তখন সাংবাদিক জাভেদ থানায় উপস্থিত ছিলেস বলে জানান।

অভিযোগ সুত্রে আরও জানা যায়, সাংবাদিক জাভেদ তার ভাইকে বাঁচাতে ওসি খান মোঃ শাহরিয়ার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি থানায় কোন পিক-আপ নেই বলে জানান। তখন জাভেদ নিজেই তার বাইক নিয়ে ভাইকে উদ্ধার করতে থানা থেকে একাই বেড়িয়ে যান।

সাংবাদিক জাভেদ ঘটনাস্থলে পৌছার পর সেখানে সদর ফাঁড়ির এ.টি.এস.আই আব্দুর রউফ তার সংগীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক জাভেদের ছোট ভাই জিহাদকে আশংখাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পরে তার অবস্থার অবনিত হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ঘটনার পরদিন ০৬.০২.১৮ইং তারিখে জিহাদের স্ত্রী মোছাঃ ববি বেগম বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জন অজ্ঞাত নামাকে আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে ০৭.০২.১৮ইং তারিখে তদন্তও হয় কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে মামলাটি ওসি রুজু না করে কোর্টে মামলাটি দায়ের করতে বলেন।

অবশেষে রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি মজিদ আলী স্যার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতায় ১১.০২.১৮ইং তারিখে রাতে ববি বেগমের মামলাটি সদর থানায় মামলা হিসেবে রুজু করেন সদর ওসি, যা মামলা নং২৯/৮৯। কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা ঘটে ১২.০২.১৮ইং তারিখ রাতে অর্থাৎ ববি বেগমের মামলাটির একদিন পর ইজাহারভুক্ত ১সং আসামী মাহাবুবুল আলম. আসাদুজ্জামান হাসু সহ থানায় উপস্থিত হয়ে ০৩.০২.১৮ইং তারিখের একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে সাংবাদিক জাভেদ ও তার ভাই জিহাদের নামে ৫লক্ষ টাকার একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন এবং তা তৎক্ষনাত কোন তদন্ত ছাড়াই ওসি সদর থানায় মামলাটি রুজু করেন, যা মামলা নং ৩০/৯০।

অভিযোগে সাংবাদিক জাভেদ হোসেন দাবি করেন, ০৩.০২.১৮ইং তারিখে মুলত সেখানে কোন ঘটনায় ঘটেনি। যদি ঘটেই থাকতো তবে ববি বেগমের মামলার পর অভিযোগ কেন করা হলো? বা কেন এই ৮দিন থানাকে বিষয়টি জানানো হলোনা?

গত ২৬ মার্চ ডিসিপ্ললন এন্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিক তার অফিসে সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে ডেকে অভিযোগকারী হিসাবে সনাক্ত করত লিখিত ভাবে তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

news portal website developers eCommerce Website Design