জামালপুরের ইসলামপুরে অবশেষ বালু উত্তোলন বন্ধ

jamalpur

ওসমান হারুনী, জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামের দুইটি স্পটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বালু উত্তোলনের মেশিন ও পাইপ আগুন দিয়ে পুড়ানোসহ একটি টাক্টার মেশিন আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

jamalpurরবিবার দুপুর দু’টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালিত হয়। এসময় ইসলামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও ইসলামপুর থানার একদল পুলিশ এ অভিযানে অংশ নেন।

জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামে যমুনার বুকে জেগে উঠা হরিণধরা ও শশারিয়া নামক দুটি নতুন চরের পাশ থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে দীর্ঘ দিন যাবত স্থানীয় দুইটি প্রভাবশালী বালুদস্যু চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ করে বিক্রি করে আসছিল। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক নতুন চর দুটির প্রায় তিন হাজার একর জমি ফসলসহ যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, আব্দুল মান্নান, ফকির আলী খান, বেলাল মিয়া, নয়ানী শেখ, সুমন শেখ, ধন মিয়া, গেল্লা শেখ, বাহাদুর মাষ্টার, শাপলা রহমান, সামছুল হক, সুমন মন্ডল ও আতিকুর রহমান সরকার গংরা যমুনা নদী থেকে ৪টি বুলগেট মেশিনে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সেপ্টি বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে আসছে। তারা ওই বালু মোরাদাবাদ নৌঘাট ও দক্ষিণ শ্বরিয়াবাড়ি স্কুল মাঠের পাশে জমিয়ে সেখান থেকে ট্রাক ও ভটটভটি যোগে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে রোজগার করছেন। ওই অবৈধ বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা বালু বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হলেও যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুপ প্রভাবে যমুনার বুকে জেগে উঠা নতুনচর সমুহ নদীগর্ভে দেবে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবির প্রেক্ষিতে ওয়ান নিউজ বিডি সহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ফলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরের আসলে রবিবার বিকালে ইসলামপুর উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত একদল পুলিশ নিয়ে মোরাদাবাদ ওইসব অবৈধ বালু উত্তোলন স্পটে অভিযান চালান। অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের মেশিন ও পাইপ ভেঙ্গে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী মেজিস্ট্রেট ও ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মেশিন ও পাইপ ভেঙ্গে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পাওয়া একটি বালু বোঝাই টাক্টার মেশিন আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আর বালুগুলো পাথর্শী ইউনিয়নের চেয়াম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]