LY1Y2K

কেশবপুরে কলেজের নাম পরিবর্তনের এজেন্ডা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ির আবু শরাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজের নাম পরিবর্তনের জন্য কার্য নির্বাহী কমিটির সভায় এজন্ডা এনে মিটিং ডাকায় এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন।

কলেজের অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে কৃতি সস্তান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী প্রয়াত এএসএইচকে সাদেক এমপি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মরণে তাঁর জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে একটি কলেজ স্থাপনার ঘোষণা দেন। কেশবপুরের জনগণকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেক কলেজটি প্রতিষ্ঠান করেন। এলাকাবাসির দাবির মুখে কলেজটির নামকরণ করা হয় আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়। তাঁরই প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের মার্চ মাসে কলেজটি এমপিওভূক্ত হয় এবং ওই সালেই ৩ তলা বিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কানায় লাল ভট্টাচার্য্য জানান, কলেজটির কারিগরি শাখায় এমপিওভূক্ত ৯ শিক্ষক ও ৯ জন কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া সাধারণ শাখায় ননএমপিওভূক্ত ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজটিতে বর্তমান ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে। কলেজটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে সাদেক পত্নী ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি গেল বছর কলেজ ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক মানের শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।

জানা গেছে, এএসএইচকে সাদেক ছিলেন সাবেক সচিব। সরকারি চাকরী থেকে অবসরে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কেশবপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনেও তিনি কেশবপুর থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন সর্বমহলের শ্রোদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে নিজ উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। সভার নোটিস বহিতে আলোচ্য বিষয় সমূহে কলেজটির নাম পরিবর্তনের এজেন্ডা দেয়ায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের অনেক সদস্য নোটিসে স্বাক্ষর করেনি। এ খবর জানাজানি হলে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। প্রয়োজনে তাঁরা আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, গত ৪ এপ্রিল কলেজের সভাপতির নির্দেশক্রমে আলোচ্য বিষয়ে কলেজের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের এক বিশেষ সভা আহবান করা হয়। ৬ এপ্রিল সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেউ হাজির হয়নি।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কলেজের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে মিটিং আহবান করা হয়েছিল। মিটিং হয়নি। হওয়ার পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।