রংপুর অঞ্চলের ২২ আসনে জয়ী হলেই ক্ষমতায় যাব : এরশাদ

রংপুর: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, রংপুর ছিল জাতীয় পার্টির দুর্গ। সেটা কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের আসনগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। এ দুর্গ মেরামত করতে হবে। আগামী নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের ২২টি আসনে জয়ী হলে আমরাই ক্ষমতায় যাব।

রোববার দুপুরে টাউন হল মাঠে আয়োজিত রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, বিগত দিনে আমাদের ছাড়া কেউই এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না। ৯১ সালে বিএনপি আর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এ দুই দল আমাদের সহায়তা নিয়েই সরকার গঠন করেছিল। ফলে আমাদের অবহেলা করবেন না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। বর্তমানের তাদের অবস্থা নাজুক। জনগণের আস্থা হারিয়ে সরকার এখন দিশেহারা। আর বিএনপির অবস্থা ছিন্নভিন্ন। তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাভোগ করছেন। বিএনপি এখন নেতাশূন্য দল। আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

এরশাদ বলেন, দেশের জনগণ এখন আওয়ামী লীগ আর বিএনপির দুঃশাসনের কারণে তাদের প্রতি আস্থা একেবারে হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমাদের দাবি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনি আমাকে অন্যায়ভাবে ৬ বছর কারাগারে আটক করে রেখেছিলেন। আল্লাহর বিচার দেখেন তিনি এখন কারাগারে। আমি যখন কারাগারে ছিলাম আমাকে কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো না। অসুস্থ হবার পরেও আমাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। এখন তিনি সুস্থ হয়েও হাসপাতালে যাবার ভান করেন।

এ সময় এরশাদ জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিরোজ রশীদ চৌধুরী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির প্রমুখ।

পরে এরশাদ রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিল্পপতি ফকরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণা করেন।