LY1Y2K

৩ নেতাকে ডিবি নিয়ে গেছে, দাবি কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়কের

quotaঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তিনজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে সাদা গাড়িতে করে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরা হলেন- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নূর হোসেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে হলে খেতে যাওয়ার সময় তাদের ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।’

হাসান আল মামুন আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ডিবি পুলিশ ঢুকেছে, সংবাদ সম্মেলনের পরপরই আমরা বুঝতে পারি। অনেকেই দ্রুত সরে পড়তে পারলেও ওদের তিনজনকে ডিবি তুলে নিয়ে গেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে তুলে নেয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কাউকে আটক করিনি। অন্য কেউ তাদের নিয়ে গেছে কি না তা আমাদের জানা নেই। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন হয়ে আসছিল। গত সপ্তাহে তা ব্যাপক আকার ধারণ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। যদিও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

এদিকে, সোমবার দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনেরও হুমকিও দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর হোসেন বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে। দাবি সত্ত্বেও তা প্রত্যাহার হয়নি। আগামী ২ দিনের মধ্যে সব মামলা প্রত্যাহার না হলে ছাত্রসমাজ আবার আন্দোলনে নামবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এটি সহ্য করতে না পেরে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত বানানোর অপপ্রচারে নেমেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই তারা এ চক্রান্ত করছে।’

নূর হোসেন আবারও দাবি করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী হামলা করেনি। বরাবরের মতোই আমরা এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বলছি- আমি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

আন্দোলনের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘ছাত্রশিবির বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিক মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। তারা লিখেছে, আমি সূর্যসেন হলে ২০১২ সালে ছিলাম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তিই হয়েছি ২০১৩ সালে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সেটিই করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার দেয়ার পরই আমরা আন্দোলন থেকে সরে গেছি। অথচ আমাদের বিএনপি-জামায়াত বানানো হচ্ছে। ছাত্রসমাজকে বিতর্কিত করা হচ্ছে, এর চেয়ে আর লজ্জার কি আছে!’