বিশ্বকে ক্ষেপাতেই রাসায়নিক হামলার বাহানা: মার্কিন সিনেটর

senator polআন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ক্ষেপিয়ে তুলতেই রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ভিত্তিহীন রাসায়নিক হামলার অজুহাতে সিরিয়ার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের সিনেটর র‌্যান্ড পল এ কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে র‌্যান্ড পল বলেন, আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে বাশার আল আসাদের সরকার। রাসায়নিক হামলাকে সিরিয়ার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে রাসায়নিক হামলার তদন্তের ব্যাপারে রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাসায়নিক হামলার তদন্ত অর্থহীন। গ্যাস হামলার তদন্তে ওপিসিডব্লিউয়ের তদন্তকারী দল বুধবার দৌমায় প্রবেশ করলে মস্কোর পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়। সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে সম্প্রতি দেশটির রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর দৌমার সাধারণ জনগণের ওপর কে বা কারা রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালায়।

এতে শ্বাসকষ্টে কাতরাতে কাতরাতে মারা যায় ৮০ জনের অধিক। এ হামলার জন্য সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও আসাদের মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে সিরিয়ার সরকার ও রাশিয়া এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা বিদ্রোহীরাই এ হামলা চালিয়েছে।

রাসায়নিক হামলা বিতর্কের একপর্যায়ে পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে সিরিয়ার ওপর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে র‌্যান্ড পল বলেন, ‘আমি এখনও রাসায়নিক হামলার বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি এবং বলতে চাই, হয় আসাদ বিশ্বের নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক, না হয় তিনি এ হামলাই করেননি। তিনি যে এ হামলা করেছেন, আমাকে তার প্রমাণ খুঁজে দেখতে হবে।’

কেনটাকির এ সিনেটর বলেন, দুই বছর ধরে সিরিয়ার সেনারা উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাফল্য পেয়ে আসছে এবং সেখানে তারা বিজয়ের পথে রয়েছে। ফলে সিরিয়ার সরকারের রাসায়নিক হামলা করার কথা নয়। তিনি বলেন, রাসায়নিক হামলার কথা বলা হয়েছে শুধু এ কারণে, যাতে আসাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায় এবং দেশটির ওপর সামরিক হামলা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় সাধারণ বোমা দিয়ে যত লোক হত্যা করা হচ্ছে, রাসায়নিক হামলার মাধ্যমে তার চেয়ে কম মানুষ মারা যাচ্ছে। তাহলে কোন যুক্তিতে প্রেসিডেন্ট আসাদ রাসায়নিক হামলা করবে- সেটাই বড় প্রশ্ন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, সিরিয়ার ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাসায়নিক হামলা সম্পর্কে তদন্ত করা এখন সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাসায়নিক হামলার জন্য এরই মধ্যে বিচার করে তার রায় কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন ঠিক করেই ফেলেছে যে সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার জন্য কে দোষী এবং দোষীকে শাস্তি দিয়েছে, তখন রাসায়নিক হামলার জন্য নতুন করে দোষীকে আর খোঁজার কোনো যুক্তি নেই। জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার আল জাফারি জানিয়েছেন, বুধবার আন্তর্জাতিক তদন্ত দল দৌমা শহরে প্রবেশ করেছে।