জয়পুরহাট

কালাইয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে এনজিও কর্মকর্তারা উধাও

By ওয়ান নিউজ বিডি

April 26, 2018

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: ‘আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে গাইবান্ধা জেলার একটি এনজিও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম মহল্লায় দর্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপণ এবং শিক্ষার্থীদের সেলাই মেশিনসহ উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে।

এলাকার ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার ‘আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কালাই উপজেলার উৎরাইল, মোহাইল, হাতিয়র সোনারপাড়া, হাতিয়র মল্লিকপাড়া, আঁওড়া পূর্ব সোনারপাড়া, জামুড়া-বাসুড়া ও তালোড়া বাইগুনিসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম মহল্লায় দর্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপণ করা হয়। এ কেন্দ্রগুলিতে দর্জি প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষার্থীদের ১২শ’ টাকার বিনিময়ে সেলাই মেশিনসহ কর্মদক্ষতায় গড়ে তোলার পর উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। এতে শত শত বেকার যুবক ও যুব মহিলারা আকৃষ্ট হয়ে দর্জি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ওই এনজিও বিভিন্ন কৌসল অবলম্বন করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র শিক্ষকদের। ওই এনজিও’র নিয়োগ প্রাপ্ত কেন্দ্র শিক্ষকদের অভিযোগ গাইবান্ধার ‘আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র এরিয়া ম্যানেজার সুলতান এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দাড়িদহ ‘কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে’র ম্যানেজার সুমন, ফিল্ডম্যান মাইদুল, আবুল হোসেন, সবুজ ও বাবলু সরকার বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা এখন মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছে। আমরা বিভিন্নভাবে যোগযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি।

উপজেলার উৎরাইল, মোহাইল ও আঁওড়া কেন্দ্র শিক্ষিকা মর্জিনা ও জামুরা-বাসুড়া কেন্দ্রে শিক্ষিকা রওশন আরা জানান, কেন্দ্রে দর্জি প্রশিক্ষণ কালিন ১২শ’ টাকা বিনিময়ে এনজিও জনপ্রতি ১টি সেলাই মেশিন ও উন্নত চাকরির প্রলোভন দেয়া হয়। গাইবান্ধার এরিয়া ম্যানেজার সুলতান এবং তার অধীন শিবগঞ্জ উপজেলার দাড়িদহ শাখার ম্যানেজার সুমন ও ফিল্ডম্যান বাবলু সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা এখন উধাও (আত্মগোপন) হয়েছে। তারা আরও জানান, ওই এনজিও কর্তৃপক্ষ সরকারি অনুমোদনের কিছু ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে।

এ ব্যাপারে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প গাইবান্ধার এরিয়া ম্যানেজার সুলতান মুঠোফোনে জানান, তিনি এ সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, কিন্তু এ এনজিও’র কার্যক্রম সন্দেহজনক হওয়ায় ৪ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি এনজিও’তে যোগদান করে। পরে তার কাছে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন আসার কারণে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফেরা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রধান কার্যালয় ঢাকাতে ফেরৎ গেছেন। তার বক্তব্য গরীব মানুষের নেওয়া টাকা ফেরৎ দিক অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।