নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন বিজয়ী মা

চট্টগ্রাম: সেই নবজাতককে নিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরলেন ‘বিজয়ী’ মা রোকসানা আক্তার। তার মুখে লেগে ছিল বিজয়ীর হাসি। সেই সঙ্গে ছিল চাপা ক্ষোভও।আবারও বিচার চাইলেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার। অনেকটা ক্ষোভ আর অভিমান থেকেই মেয়েকে ডাক্তার বানিয়ে অমানবিক আচরণের জবাব দেয়ার ইচ্ছার কথা জানালেন উপস্থিত সাংবাদিকদের।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাকে তুলে দেয়া হয় ‘বিজয়ী’ মা রোকসানার কোলে।

শনিবার ছাড়পত্র দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চমেকের নিউনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ, কনসালটেন্ট ডা. জাবেদ, ডা. কামরুন, ডা. হুমায়রা, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু প্রমুখ।

১৪ এপ্রিল শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত নবজাতককে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকার ‘চাইল্ড কেয়ার’ নামের বেসরকারি এক ক্লিনিকে ভর্তি করান ফেনীর সেনবাগ এলাকার রোকসানা আকতার।

পরদিন সন্তানকে মৃত ঘোষণা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্যাকেটে ভরে তার হাতে তুলে দেয়। বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য গোসল করাতে গিয়ে পরিবারের লোকজন দেখেন- নবজাতকটি মেয়ে নয়, ছেলে। রোকসানা পরিবারের লোকজনকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে আসেন ক্লিনিকে।

অভিযোগ দেন পাঁচলাইশ থানায়। এরপর যান ওই ক্লিনিকে। প্রথমে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জীবিত কন্যার বদলে মৃত ছেলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে। তখন যেন আকাশ ভেঙে পড়ে এই গৃহবধূর মাথায়। স্বামী বিদেশে।

বিপদে পাশে এসে দাঁড়ানোরও নেই তেমন কেউ। নিজে একাই লড়ে গেলেন নাড়িছেঁড়া ধন ফেরত পাওয়ার প্রাণান্তকর সংগ্রামে। থানা-পুলিশ ও হাসপাতালে ছোটাছুটি, গণমাধ্যমের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরাসহ তার নানা রকম তৎপরতার মুখে অবশেষে ১৭ এপ্রিল জীবন্ত মেয়েকে ফেরত দেয় চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

নবজাতকের মা রোকসানা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ‘জন্মের পর থেকে শিশুটির সঙ্গে নানা ঘটনা ঘটেছে, যা মোটেও কাম্য নয়। তার ওপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আমার মেয়েকে আমি ফিরে পেয়েছি এবং সে সুস্থ হয়ে উঠেছে। যখন আমি একটি মৃত শিশু কোলে নিয়ে গ্রামের বাড়ি পৌঁছেছিলাম তখন আমার যে কষ্টকর অনুভূতি হয়েছিল সেটা ভাবলেই গা শিউরে উঠে। অনেক যুদ্ধ করে আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। আমার বাবুটি বড় হলে তাকে ডাক্তার বানাব। সে যেন কোনো রোগীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ না করে- এ শিক্ষাই দেব তাকে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘২১ এপ্রিল বাচ্চাটি ভর্তির সময় অনেক ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। শিশুটি জীবাণু সংক্রমণ, খিঁচুনি ও রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিল। ১৩ দিন চিকিৎসার পর আজ আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি। ইতিমধ্যে মা’কে বাচ্চার যত্নের ব্যাপারে কাউন্সেলিং করা হয়েছে।’

news portal website developers eCommerce Website Design