বাতাস আর পানি দিয়ে চলবে এসকেভেটর!

নেত্রকোনা: কোনো প্রকার জ্বালানি ও শব্দ ছাড়া শুধু বাতাস ও পানি ব্যবহার করেই চলবে মাটি কাটার বড় মেশিন এসকেভেটর। শুধুমাত্র পানি ও বাতাসসংবলিত ৬টি ভেকম ব্যবহার করার মাধ্যমেই চলবে এ যন্ত্রটি।
২টি ভেকম ডানে এবং বায়ে চলার জন্য, আর ৪টি মাটিকাটা ও মাটি ফেলার কাজে ব্যবহার হবে। আর এমন যন্ত্র আবিষ্কার করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের আদর্শ বিদ্যাপীঠ দি চাইল্ড প্রিপারেটরি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাহিয়ার।
এসকেভেটরের আবিষ্কারক শাহিয়ার ভেকমগুলোর পরিবর্তে মিডিয়াম সাইজের ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পানি ও বাতাস ব্যবহার করে যন্ত্রটি চালিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সে জানায়, সিরিঞ্জের পরিবর্তে এখানে স্টিলের পাইপ এবং পানির কমপ্রেসারের জন্য প্রেসার যাতে লিক না হয়, সেখানে ভালো মানের ওয়েলসেল ব্যবহার এবং সিরিঞ্জের চাপস্টিকের জায়গাতে স্টিলের হাতল বসানোর মাধ্যমেই এ মেশিন চালানো সম্ভব।
সোমবার দুপুরে শাহিয়ার স্কুলের শ্রেণিকক্ষের টেবিলে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সামনে শাহিয়ার তার আবিষ্কার সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন। তার পরবর্তী ভাবনা আরও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ মেশিন দ্বারাই একচাপে ১০০ থেকে ১২০টি ইট বানানো সম্ভব।
সে সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করেই এ আবিষ্কার নিয়ে ভাবছে। শাহিয়ার বড় হয়ে দেশের সেবা করতে চায়। সে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলে, সময়কে অপচয় না করে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে ভাবতে। সরকার যদি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে সাংস্কৃতিক ও বিনোদন চর্চাকেন্দ্র খুলে দেন, তাহলে মেধা বিকাশের পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
স্কুলশিক্ষক দীপা রায় জানান, শাহিয়ারের বাবার নাম শামছুল হক ও মায়ের নাম সায়লা আক্তার। সে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হওয়ায় সব সময়ই নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে আনন্দ পায়।