যশোরে দোকান দখলে নিতে বাউলশিল্পীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: যশোরে ভাড়ার দোকান অবৈধ ভাবে দখলে নিতে একটি মিথ্যা মামলায় বাউলশিল্পী ইব্রাহিমকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও চাঁদাদাবী করছে শেখহাটি এলাকার আনিছুর। এ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

jessore news

বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে ওই দোকান মালিকের মেয়ে হামিমা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বাবা ইব্রাহিম(৬০) একজন বাউলশিল্পি। ছোট ভাই রাসেল একজন বাদ্যশিল্পী। আমার চাচা আব্দুস সবুর সে একজন কন্ঠশিল্পী। সে নিজেও সাংস্কৃতি অঙ্গনের সাথে জড়িত। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বলতে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া শেখহাটি এলাকায় জমি রয়েছে আর সে জমিতে কিছু দোকান রয়েছে। আর সে দোকানের উপর সংসার চলে তাদের। ২০১০ সালের ৯ মে আমার বাবা ইব্রাহিম একই এলাকার আতিয়ারের ছেলে আনিছুরের নিকট ৩০ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়ে মাসিক ১ হাজার টাকায় দুটি দোকান ভাড়া দেন। এর কয়েকদিনের মাথায় সে দোকানগুলো চলে যায় আনিছুরের ছেলে লিটনের দখলে।

তার অভিযোগ, মুলত লিটন ছিল স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। তার নামে কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সে মুদি দোকানের আড়ালে মাদকসহ বিভিন্ন ব্যবসার শুরু করে। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত লিটন স্টোরে চলতে থাকে হরেক রকম মানুষের আড্ডা। একপর্যায় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে আরেক পক্ষের সাথে লিটনের দন্দ্ব চরমে শুরু হয়। দোকানে ঘটতে থাকে নানা প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে মুল ভাড়াটিয়া আনিছুর কে জানায়। পরে সে হামিমার পরিবারের উপর চড়াও হয়। এবং ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে দোকানের মাসিক ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনকে তারা জানায়। কিন্তু তিনি কোন সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২১ নভেম্বর কোতোয়ালী থানায় আনিছুর ও লিটনের নামে সাধারণ ডায়েরী করে এবং ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর আমরা আনিছুরকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৪ সালের মধ্যে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য উকিল নোটিশ পাঠায়। এতে আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তারা। আনিছুর ও তার ছেলে লিটন দোকান কোনদিনই ছাড়বেনা বলে আমাদেরকে জানায়। বাধ্য হয়ে ১১ মার্চ আদালতে কর্জ্জা (ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের) মামলা করি। পরে আনিছুর একই বছরের ৩০ মার্চ আদালতে পাল্টা (এইচ আরসি) মিস মামলা করে। একপর্যায় আদালতের সাথেও প্রতারণা করে আনিছুর। আদালতে ভাড়া দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়না এবং মামলার তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়না। আনিছুরের দায়েরকরা এইচ আরসি মিস মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় একপর্যায় মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত। আর আমাদের করা ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের মামলায় চলতে থাকে। একের পর এক আনিছুরের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে আদালত। কিন্তু আনিছুর হাজিরও হয়না দোকান ভাড়াও দেয়না। এভাবেই কেটে যায় প্রায় চার বছর। সাম্প্রতি আনিছুরের ছেলে লিটনের সাথে অপর পক্ষের প্রভাববিস্তারের দন্দ্ব প্রকট রুপ ধারন করে। প্রতিপক্ষরা লিটনের মোটরসাইকেল ও দোকানপাট ভাংচুর করে। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ সন্ত্রাসীদের ছরিকাঘাতে খুন হয় লিটন। স্থানীয় দু’ গ্রুপের প্রভাববিস্তার ও পূর্বশক্রুতার জেরে খুন হয় লিটন। কিন্তু হত্যার পরের দিন নিহত লিটনের বাবা আনিছুর বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে লিটনের প্রতিপক্ষ গ্রুপের ৯ জনের নাম উল্লেখ করেন। সর্বশেষ অন্যায় ও উদ্দেশ্য মুলকভাবে আমার ৬০ বছরের বৃদ্ধ বাবা ইব্রাহিমকে ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি করা হয়। যা সম্পূর্ন বানোয়াট।

সংবাদ সম্মেলনে হামিমা বলেন, লিটনের মৃত্যুকে পুজি করে আনিছুর নতুন করে আমাদের পরিবারের উপর ষঢ়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা লিটনের খুনের পিছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে ইব্রাহিমের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে হামিমা আরো বলেন, বর্তমানে তার গোটা পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের ভয় দেখিয়ে জমিজমা ফেলে অনত্র চলে যাওয়ার কথা বলছে। আর শেখহাটিতে থাকতে হলে ৩ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করছে। এই আনিছুরের জন্য আমার বাবা বৃদ্ধ বয়েসে আজ মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে যাযাবর জীবন যাপন করছে। আমার বাবা এখন কোথায় আছে কেমন আছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট না। এসব চিন্তায় আমার বৃদ্ধা মা আজ শয্যাশয়ী হয়ে পরেছে। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বলে অভিযোগ করেন হামিমা।

সংবাদ সম্মেলনে মা হালিমা খাতুন, চাচা এম এ সবুর, রাসেল, ভাই রবিন হোসেন, রোমান হোসেন, চাচী তাসলিমা বেগম, ফুফু বকুল বেগম, ঝর্না খাতুন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।