এবার গাজীপুরে নির্বাচন প্রস্তুতি

gazipur city logo

gazipur city logoডেস্ক রিপোর্ট: খুলনা সিটির ভোট শেষ করেই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোট করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটির শিক্ষা গাজীপুরে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা, যাতে ভোটের দিন প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা না ঘটে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের গাজীপুর ভোটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ এসেছে।
খুলনা সিটিতে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজীপুরে ইসির যত বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া যাবে, তত বেশি ভালো ভোট হবে।

তারা বলেন, সব কেন্দ্রে ইসির একজন করে নিজস্ব কর্মকর্তা রাখা হলে কোনো দুর্বৃত্ত ব্যালটে সিল মারার সাহসও পাবে না। এক্ষেত্রে সারা দেশের কর্মকর্তাদের গাজীপুর সিটিতে নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, খুলনা সিটিতে ভোটের আগের রাতে আমরা অনেক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কিন্তু যেখানে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা যেতে পারেনি, সেখানেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের বাধা কাটার পর ভোটের জন্য ২৬ জুন নতুন তারিখ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ১৭ জুন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীরা ১৮ জুন থেকে আবারও প্রচারের সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই এই সিটিতে প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা। তাই রমজানের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এই সিটিতে ভোট করার সব প্রস্তুতি শেষ করতে চাইছে। এজন্য রবিবার বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য নতুন করে প্যানেল প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে খুলনা সিটিতে ভোট নিয়ে যেসব অঘটন ঘটেছে তেমন যেন গাজীপুরে না ঘটে সেজন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন শাখার কর্মকর্তারা।
তারা বলেন, রবিবার গাজীপুর সিটির রিটার্নিং অফিসারকে ভোট প্রস্তুতির জন্য চিঠি দেওয়া হবে। এ সিটির নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে একটি ফাইল প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলেই রবিবার তা পাঠানো হবে গাজীপুরে।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, খুলনা ভোটের শিক্ষা থেকে বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে গাজীপুরের ভোটের জন্য। ইসি এ ভোটকে সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যাতে ভোট নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন না ওঠে।

এদিকে গাজীপুর সিটি ভোট নিয়ে নতুন করে ভাবছে প্রধান দুই দল। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে খুলনা সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি খুলনা সিটির ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনও আসন্ন গাজীপুর সিটির ভোট নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করছে। সেই সঙ্গে খুলনা সিটিতে অস্বাভাবিক ভোট প্রদানের হার নিয়েও তদন্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইসির আনুষ্ঠানিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন বললে তদন্ত হবে।
গত রবিবার কমিশন সভায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। এরপর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, এ নির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন পড়বে না। প্রার্থীরা ১৮ জুন থেকে আবারও প্রচারের সুযোগ পাবেন। এর আগে ১৫ মে ভোটের দিন রেখে গত ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। সে অনুযায়ী ভোটের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু ঢাকার সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিট আবেদন করলে গত ৬ মে নির্বাচন তিন মাস স্থগিতের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীর আবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ গত ১০ মে স্থগিতাদেশ বাতিল করে ২৮ জুনের মধ্যে ভোট করার নির্দেশ দেয়। কমিশন সভায় ভোটের নতুন তারিখ ঠিক হওয়ার পর ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান বলেন, আদালতের আদেশ প্রতিপালন করতে হবে। কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ থাকলেও তা ভোটের আগে সম্পন্ন করা হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

news portal website developers eCommerce Website Design