পাকুন্দিয়ায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

2

2কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অবৈধ বালু মহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোববার পৌরসদর বাজারে উপজেলা ছাত্রলীগ ও পৌর যুবলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিপেক্ষ ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহাবয়ক রুবেলের ছোট ভাই ইয়াসিনকে (২১) আটক করে পুলিশ। আহতরা হলেন পৌর যুবলীগের আহবায়ক নাজমুল হক দেওয়ান, যুবলীগ কর্মী জামাল, ছিদ্দিক, পৌর ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ উদ্দিন, এগারসিন্দুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরমিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার মির্জাপুর, চরফরাদী এবং বাহাদিয়া পাঠানবাড়ি ঘাট থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাংগন, কৃষিজমিসহ বাড়ি-ঘর নদে গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ২৩ মে বুধবার উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও এলাকার কিছু সংখ্যক কৃষক মিলে অবৈধ বালুভর্তি বেশ কিছু ট্রাক আটক করে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। পর দিন আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন গং-এর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষাপটে রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা আহবায়ক মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ এবং কৃষকদের নিয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে আসতে চাইলে পৌর যুবলীগের আহবায়ক মো. নাজমুল হক দেওয়ান ও যুগ্ম আহবায়ক রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে পৌর যুবলীগের একদল নেতাকর্মী দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ও ইটপাটকেল ছুরে মিছিলটি ছত্রভংগ করার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে থানার মোড় থেকে ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা সকল দোকানপাট বন্ধ করে পথচারীরা এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করতে থাকলে মহিলা ও শিশুসহ কয়েকজন পথচারী আহন হয়। আধা ঘন্টা সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ ও বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসময় ওসিসহ পুলিশের ৫ জন সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. রুবেল মিয়া বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক এখলাছ উদ্দিন চাঁদার দাবিতে বালু উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। এ কারণে ছাত্রলীগ রোববার সকালে একটি মিথ্যা প্রতিবাদ মিছিল করতে চাইলে আমরা তাদের মিছিলটি করতে দেইনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন জানান, অবৈধ বালু উত্তোনের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আমার কর্মীদের উপর পৌর যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এ জন্য আমি দোষীদের বিরুদ্ধে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পাকুন্দিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।সূত্র:নয়া দিগন্ত

news portal website developers eCommerce Website Design