affwk33_ann_ 336X280BD-[E:JA17]

জমে উঠেছে যশোরের ঈদ বাজার

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর: যশোরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। সবশ্রেনীর মানুষ ছুটছেন তাদের পছন্দের পোশাক কেনার জন্য। এজন্য বিপণী বিতানগুলো থাকছে ক্রেতা বিক্রতায় ঠাসা।প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করেও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত যশোরের মানুষ। পবিত্র রমজান মাসের ২৫ দিন অতিবাহিত হতেই পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ছেলে বুড়ো সবাই। মঙ্গলবার বাজার ঘুরে দেখো গেছে জমে উঠেছে যশোরের ঈদ বাজার। বিশেষ করে যশোরের সিটি প্লাজা, মুজিব সড়ক, জেস টাওয়ারসহ অভিযাত বস্ত্র বিপনী গুলোতে ভিড় একটু বেশিই দেখা গেছে। “শেষের দিকে ঠেলাঠেলি করে জিনিসপত্র কেনা কষ্টকর তবে দাম বেশী, কথাগুলো বললেন যশোর কাপুড়িয়া পট্টিতে ঈদের মার্কেট করতে আসা যশোরের সাড়াপোলের বাসিন্দা সাথি খাতুন। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে পছন্দসই কেনাকাটা করতে বাজারে এসেছেন।

দোকানীরা বলছেন, রমজানের তৃতীয় দিন থেকে বাজারে ক্রেতাসাধারণকে আসতে দেখা যাচ্ছে। রমজানের আগেও কেউ কেউ এসেছেন। যদিও মূল বেচাকেনা শেষের দিকেই হয়ে থাকে।
মনিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী হাবিব স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে। তিনি জানান, কেনাকাটা তো করতেই হবে। তাই আগে-ভাগেই করাই ভালো। সাধ আছে সাধ্য নেই, ঈদের ক্ষেত্রে তা যেন প্রযোজ্য নয়। যেভাবেই হোক পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন জামা কাপড় ও জিনিসপত্র কেনার ব্যাপারে কার্পন্য করা ঠিক হবে না। তাই ছুটে এসেছি।

যশোরের মুজিব সড়কের সুই-সুতা, কাপুড়িয়া পট্টির মনষা বস্ত্রালয়, অন্যন্য সড়কের রং ফ্যাশন, শাড়ী ঘর, জেস টাওয়ার, তাঁত কুটির, বিদিশা, লিবার্টি স্যু, লেডিস কর্ণারসহ বিভিন্ন অভিজাত বিপণীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষের দিকে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে।

যশোরে গরীবের মার্কেট হিসেবে পরিচিত কালেক্টরেট মার্কেটে ভিড় বেশী। ব্যবসায়ী আলমগীর বললেন, এবার শিশু ও কিশোরদের পাঞ্জাবী, জুতা, স্যান্ডেল ও টি শার্ট এবং থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে বেশী। বড়দের জিনিসপত্রও বিক্রি হচ্ছে কম। ইমিটেশনের কানের দুল, চুড়ি ও পারফিউমের দোকানেও ভিড় আছে। ঈদমার্কেটে সাধারণত সকালে আর বিকাল থেকে রাতপর্যন্ত ভিড় হচ্ছে। দুপুরে রাস্তাঘাট দোকা পাটে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। এর কারণ প্রচন্ড তাপদাহ।

এ দিকে যশোরের টেইলার্স গুলোতে খোজ নিয়ে জান গেছে, অনেকে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রচুর কাজের চাপে হিমসিম খাচ্ছেন প্রায় সব গুলো টেইলার্সেও দোকান গুলো।
এ ব্যাপারে যশোর এইচ এম এম রোডের মডার্ন টেইলার্সের মালিক রুহুল আমিন বলেণ, আমরা রোজার ১০ দিন আগে থেকে কাজ শুরু করেছি পুরো দমে। তিনি বলেন, এবার কাজের চাপ বেশি তাই ঈদের আগে সকল পোশাক ডেলিভারি দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বরাবর ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের তারকারা যে সব পোশাক পরেন তার প্রতি এদেশীয় মেয়েদের দুর্বলতা থাকে। তারাও সে বিষয়টি মাথায় রেখে দোকানে পোশাক তুলেছেন। বিক্রিও বেশ সন্তোষজনক। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রিও তত বাড়ছে।

ঈদ উপলক্ষে শহরের প্রতিটি বিপণী বিতানে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। এ জন্য প্রশাসনও রয়েছে সজাগ। ক্রেতা বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘে কেনাবেচা করতে পারেন সে জন্য প্রশাসন নিয়েছে ২ স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।