অর্থমন্ত্রীর দোয়া নিতে ঢাকার বাসায় কামরান

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাসায় গেলেন সিলেট আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। গতকাল সকালে তিনি অর্থমন্ত্রীর ঢাকার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় কামরান অর্থমন্ত্রীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। অর্থমন্ত্রীও তাকে আগামী নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর দোয়া নিয়ে দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এসে দুপুরের দিকে কামরান দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন। সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান গত বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেন।

সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমে দলীয় কার্যালয় থেকে নৌকার টিকিট পেতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। রাতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করে গতকাল সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঢাকার হেয়ার রোডের তন্ময়-২ বাসায় যান। এ সময় অর্থমন্ত্রী বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি নিজে এসে কামরানকে এগিয়ে নিয়ে যান।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগেই অর্থমন্ত্রীর দোয়া নিতে তার ঢাকার বাসায় যান। সেখানে তিনি অর্থমন্ত্রীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর দুপুরে এসে কামরান দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসে জানান- তিনি সিলেট নগরবাসীর সেবা অতীতে করেছেন। আগামীতেও করতে চান। যেহেতু দল করেন এ কারণে তিনি নৌকার সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

গতকাল কামরান ছাড়াও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমসহ ৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন- দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকের আগে কিংবা পরে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেন বলে জানান তিনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিলেটের সাবেক মেয়র কামরানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর তেমন সুসম্পর্ক ছিল না। এ কারণে গেল সিটি নির্বাচনে অর্থমন্ত্রী বলয়ের নেতারা কামরানের পক্ষে মাঠে থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে তারা ‘রহস্যময়’ ভূমিকা পালন করেন। এজন্য কামরানের পরাজয়ের পর সিলেটে অর্থমন্ত্রী বলয়ের ভূমিকার বিষয়টি বিশদভাবে চাউর হয়।

এদিকে গত নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অর্থমন্ত্রীর ও তার বলয়ের নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনেন কামরান। গেল দুই বছর ধরে এই সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। ফলে এখন দূরত্ব নেই বললেই চলে। এর পরও গতকাল কামরান অর্থমন্ত্রীর বাসায় দোয়া নিতে চলে যান। তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেই দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এই মুহূর্তে সিলেট আওয়ামী লীগের অভিভাবক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সিলেটে মন্ত্রী বলয়ের নেতাকর্মীরা বেশ প্রভাবশালী। জয় ঘরে তুলতে ও মন্ত্রী বলয়ের নেতাদের সঙ্গ পেতে তার বাসায় ছুটে যান কামরান বলে জানিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিমও এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন চাচ্ছেন। এ কারণে মাহি সেলিম দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর গতকাল জমাও দিয়েছেন। তবে মাহি সেলিমকে মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগ এখনো গ্রহণ করেনি। মন্ত্রী বলয় ছাড়া অন্য কোনো বলয়ে তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় কামরান জানিয়েছেন- সিলেট আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন বিভক্তি কম। দলীয় মনোনয়ন পেতে আপাতত দলের ভেতরে লড়াই চলছে। কিন্তু দলের মনোনয়ন ও সভানেত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সব শেষ হয়ে যাবে। এরপর সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা এককভাবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। দলের ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে লড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগ কখনো তৃণমূলের সমর্থন ছাড়া কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় না। সুতরাং তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে আমরা যারা এসেছি তাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে নৌকার টিকিট। সূত্র: মানবজমিন