‘নাশকতা ও সরকার উৎখাতে গোপন বৈঠক করছিল শিবির’

চট্টগ্রাম: ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংগঠন পারাবাতের ব্যানারেই চলছিল নাশকতা ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে গোপন বৈঠকস্থলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নারী-শিশুর গণজমায়েত করে কৌশলী এই সংগঠনটি। বিকেল থেকে ঠিকঠাকভাবেই চলছিল তাদের বৈঠক। তবে সন্ধ্যার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে গান-বাজনা শুরু করে তারা। এমন কথাই জানালেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুরিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ।

আর সিএমপি কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানান, নগরের স্টেশন রোডের পর্যটন করপোরেশনের মোটেল সৈকত থেকে ছাত্রশিবিরের গ্রেফতার ২১৪ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ২৪ জুন (রোববার) সিএমপি কোতোয়ালী থানা পুলিশের উপ উপ পরিদর্শক (এসআই) গোলাম ফারুক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এসব আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আ.জ.ম ওবায়দুল্লাহ, ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি রফিকুল হাসান, সেক্রেটারি ইমরানুল হকসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন শাখা ও পারাবার শিল্পী গোষ্ঠির ২১৪ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১০জনকে।

তিনি বলেন, নগরের স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতে গোপন বৈঠক থেকে শিবিরের প্রায় ২৯৪ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর যাচাই-বাছাই শেষে রোববার সকালে ২১৪ জনকে এজাহার নামিয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী ওমর পারুক জানান, ‘পারাবার’ নামে সাংস্কৃতিক একটি সংগঠনের ব্যানারে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ওই হোটেলে। আর এই সংগঠনটি ইসলামী শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার পরিচালিত সাংস্কৃতিক শাখা।

জানা গেছে, শনিবার বিকাল থেকে নগরের স্টেশন রোডের পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত মোটেল সৈকতে ঈদ পুর্নমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পারাবার শিল্পী গোষ্ঠি। বিকাল চারটা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সুন্দরভাবেই চলছিল। তবে বিপত্তি দেখা দেয় সন্ধ্যার পর। গোপন সংবাদ পেয়ে নগরের কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন ফোর্স নিয়ে হোটেলটি ঘিরে ফেলেন। এর পর সেখান থেকে প্রায় ২৯৪জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। জব্দ করা হয় অনুষ্ঠানস্থলে ব্যবহৃত সাউন্ড সিসটেম, মাইক্রোফোন, তবলা হারমুনিয়ামসহ পারাবার শিল্পী গোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সরঞ্জাম।