top 1

বান্ধবীকে ধর্ষণে সহায়তায় ছাত্রীর যাবজ্জীবন

By ওয়ান নিউজ বিডি

July 19, 2018

রংপুর : রংপুরে বোরখা পরে ছদ্মবেশে ছাত্রীনিবাসে ঢুকে ধর্ষণের মামলায় তাজকীর হোসেন (৩২) ও ধর্ষণে সহায়তা করায় দুলালী আকতারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. যাবিদ হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশের পাশাপাশি আসামিদের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

তাজকীর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মাদারপুর খিয়ারছড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে। আর দুলালী একই এলাকার খিয়াচড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর লালবাগ খামারপাড়া এলাকায় শাকিব টাওয়ার নামে একটি ছাত্রীনিবাসে থাকতেন রংপুর সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া দুলালী আকতার।

কারমাইকেল কলেজের ছাত্র তাজকীর হোসেনকে পছন্দ করতেন দুলালী। কিন্তু, তাজকীর হোসেন দুলালীর বান্ধবী কারমাইকেল কলেজের বাংলা তৃতীয় বর্ষের নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে তিনি দুলালীর ওই বান্ধবীকে ধর্ষণে সহায়তার শর্তে প্রেমের সম্পর্কে রাজি হন।

২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর দুপুরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভুয়া জন্মদিন পালনের কথা বলে তাজকীরের পছন্দ করা ওই ছাত্রীকে দুলালী তার কক্ষে ডেকে আনেন। শীতকালীন ছুটির কারণে ওই সময় ছাত্রীনিবাসে দুলালী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে সেখানে বোরখা পরে ঢুকে পড়েন তাজকীর হোসেন।

দু’জনকে এক কক্ষে রেখে দুলালী বাইরে এসে দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে পাহারা দেন। এ সুযোগে তাজকীর ওড়না দিয়ে ওই ছাত্রীটির মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ওই ঘটনা গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয়ও দেখান তাজকীর।

পরের দিন তাজকীর ফের ওই ছাত্রীর সঙ্গে মিলনের প্রস্তাব দিলে নির্যাতিতা রংপুর কোতোয়ালি থানায় তাজকীর ও দুলালীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৭ মার্চ তাজকীর ও দুলালী আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার এর রায় ঘোষণা করা হলো।

এদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাছনাইন।