মৌলভীবাজারে ফের বন্যার শঙ্কা

মৌলভীবাজার: সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারে ৩৮টি বাঁধ ভেঙে জেলা প্লাবিত হলেও মাত্র ৪টি বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। ধীর গতির কারণে পুনরায় বন্যা আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসী। বর্ষার বেশিরভাগ সময় বাকি থাকায় এবং ভারতের ত্রিপুরায় একটানা বৃষ্টি হলে আবারো প্লাবিত হবে মৌলভীবাজার।

এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টি ও অন্যান্য সমস্যার কারণে কাজ করতে কিছুটা দেরি হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টার কথা বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন র্বোড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের বন্যায় মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর ৩৮টি ভাঙনের মধ্যে শুধু মনু নদের কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা অংশেই রয়েছে ২৯টি ভাঙন। কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর ভাঙন ৮টি আর রাজনগর উপজেলার কালাইগুল এলাকায় কুশিয়ারা নদীর একটি ভাঙন দেখা দেয়। এরমধ্যে কুশিয়ারা নদীর কালাইগুল, মনু নদের কুলাউড়ার ইটারঘাট, সদর উপজেলার বারইকোনা ও রাজনগরের আব্দুল্লাপুরের বাঁধের ভাঙন মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। আর যেগুলোর কাজ এখনও শুরু হয়নি কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলোর মেরামত কাজ শুরু হবে।

সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ভোলা নগর গ্রামে মনু নদের গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় চারশ মিটার ভাঙনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধের বড় অংশ এখন রয়েছে উন্মুক্ত।

স্থানীয়রা জানায়, জুলাই মাসের প্রথম দিকে ভাঙন স্থান মেরামত কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের ধীর গতির কারণে তারা আতঙ্কিত।

কুলাউড়ার ঝিলের পাড় এলাকার ফয়জুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ ভাঙন এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। দ্রুত ভাঙা বাঁধের উন্মুক্ত স্থানসমূহ মেরামত করা না হলে এই স্থান দিয়ে পুনরায় বন্যার পানি ঢুকবে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তওফিক আহমেদ বাবু জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যার পরও যদি কর্তৃপক্ষের টনক না নড়ে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আগামীতে শুধু সম্পদ নয় জানমালেরও ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে। শুধু বাঁধ মেরামত করে লাভ হবে না এখন দরকার নদী খনন।

পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই সব কাজ শেষ করব। ভাঙন স্থানগুলোর মধ্যে কয়েকটির মেরামত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকিগুলো কাজ দ্রুত এগুচ্ছে।

news portal website developers eCommerce Website Design