top 2

এবার টঙ্গীতে রাস্তা পার হতে গিয়ে পিষ্ট কলেজছাত্রী

By ওয়ান নিউজ বিডি

August 04, 2018

ডেস্ক রিপোর্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে তুলে বাড়িতে ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যেই টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ফারহানা আক্তার মিম।

টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন মিম।

শনিবার কলেজে পরীক্ষা শেষে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বড়বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি কাভার্ডভ্যান মেয়েটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ডভ্যানে চালকের সহকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে৷ পরে তারা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহত মিম গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাহপুর থানার কদুরিয়া গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। তিনি টঙ্গীর বড়বাড়ি বগারটেক এলাকায় পরিবারের সাথে থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কুনিয়াপাছর আয়াতআলী উদয়ন একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম নিহার বলেন, বড়বাড়ি বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান ওই ছাত্রীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

‘মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রথমে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ এবং পরে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

মেয়ে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মিমেম বাবা ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকালে পরীক্ষা দিতে কলেজে যায় মিম। কিন্তু ফেরার পথে আমার মাইয়াডারে মাইরা ফেললো কাভার্ডভ্যানটা। এখন আমি কি লইয়া বাঁচমু?’

টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। সড়কে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।’

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর তাদের আন্দোলনে ভাঙচুরের কারণ দেখিয়ে নগর পরিবহন ও মহাসড়কে বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ওই গাড়িটি বেশ দ্রুত চলছিল। আর মেয়েটিও গাড়িটি না দেখে দ্রুত পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা সেন্টারের গবেষণা বলছে, সড়কে যত মানুষ মারা যায়, তাদের ৪২ শতাংশই প্রাণ হারায় রাস্তা পারপারের সময়।

বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদে পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস থাকলেও টঙ্গীর দুর্ঘটনা ঘটা ওই এলাকাটিতে তেমন কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। ফলে সেখানে এভাবে দৌঁড়েই রাস্তা পার হতে হয় পথচারীদের।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই শুক্রবার মগবাজারে বাস চাপায় একজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। একই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিহত হয়েছে মোট ১১ জন।