ঢাকায় নামল বাস, সংখ্যায় কম

dhaka bus

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাস মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের পর আজ থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। এছাড়া রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটেও সকাল থেকে বাস চলাচল করলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় সংখ্যাটা অনেক কম।

সকালে রাজধানীর মিরপুর, মতিঝিল, টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, ভিক্টোরিয়া পার্ক, জজকোর্ট এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক রুটে বাস চলতে দেখা গেলেও তা অনেক কম। আবার অনেক এলাকায় বাস চলতে দেখা যায়নি। তবে বাসের সংখ্যা কম হলেও বেড়েছে প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানের সংখ্যা।

গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বেশ কিছু গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আগুন দেয়া হয় বেশ কয়েকটি গাড়িতে।

পরে বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও তাতে আস্থা পায়নি আন্দোলনকারীরা। তারা লাইসেন্স পরীক্ষা করায় নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তার অজুহাতে ঘোষণা না দিয়ে তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস বন্ধ রাখে মালিক ও শ্রমিকরা। এর ফলে কার্যত অনেকটা অচল হয়ে পড়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তিন দিনের ভোগান্তি শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, সোমবার থেকে পুরোদমে সারা দেশেই চলবে বাস। রবিবার রাতে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, সারা দেশের পরিস্থিতি এখন ভালো মনে হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বোধ করছি। বাস চালানোর মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

‘মালিক-শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সকালে রাজধানীর মিরপুর, মতিঝিল, টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, জজকোর্ট এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়ে বাস চলাচল করার খবর জানিয়েছেন ঢাকাটাইমসের প্রতিবেদকরা। তারা জানান, সকাল থেকে এসব এলাকায় কিছুটা বাস চলাচল করতে দেখেছেন তারা। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় এই সংখ্যাটা ছিল অনেক কম থাকায় আজও বিপাকে পড়তে হয়েছে এসব যানে করে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষকে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসের সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সকালে কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা গেছে, বাসের জন্য অনেক মানুষ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। গাবতলী থেকে যেসব বাস ছেড়ে আসছে সেগুলো মানুষে ভর্তি। মাঝে মাঝে দুএকটি বাসে দরজার কাছে ফাঁকা জায়গা দেখে অনেকে হুড়মুড়িয়ে উঠলেও অধিকাংশ মানুষকে আবার ফিরে আসতে হচ্ছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে অন্য উপায়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের।

কথা হয় সেখানে অপেক্ষা করা আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শাহবাগ যাওয়ার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু এখনো বাসে উঠতে পারিছি না। মাঝে দুএকটি বাস আসলেও তাতে যাত্রীতে ভরা। উপায় না পেয়ে সিএনজি অটোরিকশা খুঁজছি। কিন্তু তাও পাচ্ছি না।

পল্টন, কাকরাইল মোড়েও কয়েকটি রুটের কিছু কিছু বাস চলতে দেখা গেছে। এগুলোতে যাত্রী ছিলো প্রচুর।

সকাল নয়টার দিকে সদরঘাট-গুলিস্তান সড়কে দেখা যায়, এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী গাজীপুরা থেকে সুপ্রভাত পরিবরহণের দুটি বাস বংশাল পার হচ্ছে।

আবার গুলিস্তানে দিয়ে এর উল্টো চিত্রও দেখা যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুর-মাওয়া রুটের স্বাধীন পরিবহন মাওয়ার উদ্দেশে যাত্রী ডাকছেন বাসের সহকারী। এছাড়া গুলিস্তান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়িতে গাজীপুরের যাত্রীদের ডাকছেন কয়েকটি গাড়ির সহকারী।

গোলাপশাহ মাজারের সামনে এসে দেখা যায়, চিড়িয়াখানা থেকে ছেড়ে আসা দিশারী পরিবহনের তিনটি বাস যাত্রী নামাচ্ছে।

একই জায়গায় মিরপুর থেকে সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা তানজিল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী একটি বাস দেখা গেছে। সাভার থেকে ছেড়ে আসা সাভার পরিবহনের একটি বাসকে যাত্রী নিয়ে আসতে দেখা গেছে। তবে বিআরটিসির বাস অন্যান্য দিনের মত চলতে দেখা গেছে সড়কে।

বাসের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা পাঠাও, উবারেরও দেখাও মিলছে বেশ।

রাজধানীর মতো তুলনামূলক কম হলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস চলাচল করছে। বাস চালকরা জানান, অনেক গাড়ির লাইসেন্স না থাকায় তারা সড়কে নামতে পারছে না। এ কারণে যান চলাচল কম দেখা গেছে।

news portal website developers eCommerce Website Design