বেড়েছে এমবিবিএসে ভর্তির সুযোগ সরকারি কলেজে বেড়েছে ৫০০ আসন * আসন আরও বাড়াতে চায় বেসরকারি কলেজগুলো

medical exam

আগামী ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ বেড়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ৫০০ আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৮ আগস্ট এক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ওই সভায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস আগে কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজে তিন হাজার ৩১৮টি আসন রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হল আরও ৫০০টি আসন। প্রায় এক যুগের বেশি সময় পর সরকারি কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন বাড়ানো হল। এতে করে বেশি সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে। বাড়ানো ৫০০টি আসন পুরনো আটটি মেডিকেল কলেজসহ সব মেডিকেল কলেজে বণ্টন করা হবে। তবে তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজে কোনো আসন বাড়ানো হবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবছর আসন সংখ্যা বাড়ানোর আবেদন করা হলেও যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিবছরই কিছু সংখ্যক কলেজের আসন বাড়ানোর অনুমতিও দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক মাস আগে বেশকিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আসন বাড়ানোর আবেদন করে। কয়েকটি কলেজের আসন সংখ্যা বাড়ানোরও অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে অন্যরা এখনও তৎপর রয়েছে।

আসন সংখ্যা বাড়ানো প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গুণগত চিকিৎসা শিক্ষা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, আসন বৃদ্ধির আলোচনা সভায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর পক্ষ থেকে কাউকে ডাকা হয়নি। গত কয়েক মাসে রাজধানীর ৭-৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ধানমণ্ডি এলাকায় দুটি এবং উত্তরা ও ইস্কাটন এলাকায় একটি করে মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের একটি কলেজেরও আসন বাড়ানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকারি মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো মেডিকেল কলেজগুলো ২২০টি এবং নতুন মেডিকেল কলেজগুলোতে বাকি আসনগুলো বণ্টন করা হবে। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় রাঙ্গামাটি, হবিগঞ্জ ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে কোনো আসন বাড়ানো হবে না।

অধ্যাপক রশীদ আরও বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার মান যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য আমরা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আর আসন বাড়াতে চাই না। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে ১০ থেকে ১৫ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আসন সংখ্যা বাড়ানোর আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪-৫টি কলেজের আসন বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৮২ হাজার ৭৮৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। গত বছর সরকারি ৩১টি মেডিকেল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৩১৮টি। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ২৪ জনের বেশি। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রতি আসনের বিপরীতে আটজনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। গত বছরের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৮৫ হাজার ২০৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছিল ২৯ হাজার ১৮৩ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর ছিল ৮৫।

তবে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অর্থাভাবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হতে পারেনি। সভায় অংশগ্রহণকারী পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন বৃদ্ধি একটি বাণিজ্য। অথচ তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজ পরিচালনায় নিয়মনীতি ঠিকভাবে পালন করে না। এমনকি বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তারা অবকাঠামো, শিক্ষক ও অন্য আনুষঙ্গিক কাজ ঠিকভাবে প্রতিপালন করে না। এ জন্য গত শিক্ষাবর্ষে কয়েকটি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় এলেও এর বিরোধিতা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সভার অন্যতম সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান বলেন, আমরা চাই চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি যেন না থাকে। তাই সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ নেই। এ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভালো চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা বেসরকারি পর্যায়ে আসন বৃদ্ধির পক্ষে নই।

প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ৫ অক্টোবর এবং বিডিএস (ডেন্টাল) ভর্তি পরীক্ষা ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএসে ভর্তি অনলাইনে আবেদন করা শুরু ২৭ আগস্ট এবং জমার শেষ তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর। আর বিডিএসে ভর্তি অনলাইন আবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শিগগির পত্রিকায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

news portal website developers eCommerce Website Design