top 2

নতুন কলরেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

By ওয়ান নিউজ বিডি

August 15, 2018

মোবাইলের নতুন কলরেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তিও দেখানো হচ্ছে। মোবাইল অপারেটররা বলছেন, নতুন নির্ধারিত কলরেট অনুযায়ী গ্রাহকরা সুবিধা পাবেন বেশি। আগের তুলনায় কলরেটও কমছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ আগে যেখানে ২৫ পয়সায় কথা বলা যেত এখন তা ৪৫ পয়সা করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনের কলরেটের নতুন হার নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সোমবার রাত ১২টার পর এই হার কার্যকর হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের এসএমএস দিয়ে বিষয়টি জানাতে শুরু করেছে।

নতুন হার অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরগুলো ৪৫ পয়সার নিচে কোনো কলরেট নির্ধারণ করতে পারবে না। এই কলরেট সর্বোচ্চ ২ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে। এর আগে বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬৫ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট ২ টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ ছিল একেক রকম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দুই ধরনের কলরেট চালু আছে, অননেট ও অফনেট। অননেট হলো একই মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করার (কথা বলার) পদ্ধতি এবং অফনেট কল হলো এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ফোন করা। নতুন নিয়মে এই অননেট ও অফনেটের কলরেট পদ্ধতি আর থাকছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৪৫ পয়সা হলো নতুন কলরেটের ফ্লোর প্রাইস (ইউনিফায়েড ফ্লোর প্রাইস)। এই রেটের কমে কোনো মোবাইল নম্বরে কল করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের পছন্দমতো রেট সাজিয়ে নতুন কলরেট গ্রাহকদের অফার করতে পারবে।

কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২ টাকা, যা আগেও ছিল। অপারেটররা বলেছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকরা সুফল পাবে। আগে অননেট কলের সর্বনিম্ন সীমা ২৫ পয়সা হলেও গ্রাহকদের গড় খরচ হতো ৩৯-৪০ পয়সা। আর অন্য অপারেটরে (অফনেটে) কলের সর্বনিম্ন সীমা ৬৫ পয়সা হলেও গ্রাহকের খরচ হতো ৮৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সার মতো। নতুন কলরেট চালুর ফলে একই অপারেটরে কলের খরচ ৫ পয়সা বাড়লেও অন্য অপারেটরে কলের ক্ষেত্রে খরচ কমবে ৪৫ থেকে ৫০ পয়সা। মূলত গ্রাহক সংখ্যায় ছোট অপারেটরের গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে অপারেটররা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের মোট কলের মধ্যে অননেট হলো ৩৫ এবং অফনেটে ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে দামের পার্থক্য ছিল ১৪৫ শতাংশ। নতুন কলরেটের কারণে কলরেট কমলো প্রায় ৬৫ শতাংশ। অফনেট ও অননেটের মধ্যে দামের যে বৈষম্য ছিল তা দূর হলো। মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি বা এমএনপি চালু হলে গ্রাহক আরো উপকৃত হবেন। নেটওয়ার্ক পছন্দে তাদের অবাধ স্বাধীনতা থাকবে।

এদিকে সরকারের বেঁধে দেয়া ভয়েস কলের এই নতুন রেট লাভজনক কিনা তা খতিয়ে দেখছে অপারেটররা। তারা জানান, এখনও এ নিয়ে হিসাব করার সময় আসেনি।

তবে অপারেটরদের এ যুক্তিকে আমলে নিতে চান না সাধারণ গ্রাহকরা। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে অনেকে বিষয়টি নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, ২৫ পয়সা থেকে ৪৫ পয়সা বাড়ানো একেবারে অযৌক্তিক। এতে ফোনে কথা বলার খরচ বাড়বে। এখন সর্বনিম্ন কল খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে ভ্যাট, ট্যাক্স। এই বাড়তি টাকা তো আমাদেরই দিতে হবে।

মিরপুরের বাসিন্দা মোবাইল ফোন গ্রাহক আজিম বলেন, পূর্ব কোনো ঘোষণা না দিয়েই অপারেটররা মোবাইল কলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা অন্যায়। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যেকোনো ফোন কলের দাম কমার কথা সেখানে আমাদের দেশে উল্টো ঘটনা ঘটছে।

একই এলাকার আরেক গ্রাহক ফরিদ জানান, বলা হচ্ছে সরকার এটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কি এটা করেছে। আমার মনে হয়, অপারেটররা এখানে তাদের ব্যবসায়িক দিকটি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের মতো সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে টাকা কাটতেই কলরেট বাড়ানো হয়েছে।

ফার্মগেট এলাকার খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমরা তো অফনেট অননেট বুঝতে চাই না। আমাদের কাছে দিন শেষে কল খরচ কত হলো সেটাই আসল বিষয়। মাস শেষে যদি দেখি কল খরচ বেড়েছে তাহলে বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারবো না।

এদিকে মোবাইল গ্রাহকদের এ ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে মোবাইল অপারেটররাও। এ প্রসঙ্গে বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, নতুন কলরেট মাত্র একদিন হলো বাস্তবায়িত হয়েছে। গ্রাহকদের সঠিক অনুভূতি জানতে আরো সময় প্রয়োজন। তবে এটা ঠিক নতুন কলরেটের কারণে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি দীর্ঘমেয়াদে এটা গ্রাহকদের জন্য ভালো হবে। কারণ তারা কোনো নেটওয়ার্কে কথা বলছে সেটা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। তবে বাংলালিংক তাদের গ্রাহকদের অর্থের সর্বোচ্চ মূল্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল গ্রাহক রয়েছেন। মানবজমিন