শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হচ্ছে না ডিসেম্বরে

electricity

২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়। দেশের ৪৬০টি উপজেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩৯টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ডিসেম্বর নাগাদ আরও ৮০টি উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।সবমিলিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩১৯টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে পারে।বাকিগুলোতে সংযোগ দিতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের ঘোষণা রয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। এই ঘোষণাকে আরও একধাপ এগিয়ে আরইবি জানিয়েছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের প্রকল্প শেষ করবে তারা। বছরের প্রায় আট মাস পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে গেছে ডিসেম্বর। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, চলতি বছর শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এখন প্রতিষ্ঠানটি বলছে আগামী বছর শেষ হবে এই প্রকল্প।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন না হওয়ার মূল কারণ হিসেবে আরইবি সূত্রগুলো পরিকল্পনা মাফিক সব লাইন নির্মাণ করতে না পারাকে দায়ী করছে। এছাড়া রয়েছে বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা। এখনও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো প্রতিমাসে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে।মাস পার হতেই আবার লাখ লাখ আবেদন এসে জমা হচ্ছে। নতুন করে আবার সেসব সংযোগ দেয়া হচ্ছে।

আরইবির একজন কর্মকর্তা জানান, আগে কোন কোন ক্ষেত্রে বিদ্যুতের মিটার পাওয়া একটু কষ্টকর ছিল।

আবেদন করার পর সংযোগ পেতে একটু বেশি সময় প্রয়োজন হতো। এখন যেহেতু শতভাগ সংযোগের কাজ চলছে তাই সংযোগ দেয়া দ্রুত এবং সহজতর হয়েছে। সঙ্গত কারণে আগে একটি মিটার থেকে গ্রামের অনেকগুলো পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহার করতো। এখন তারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন মিটার নিচ্ছে। যাতে করে ব্যবহারকারির সংখ্যা বাড়ছে। নতুন সংযোগের পরিমাণও বাড়ছে। তবে কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকার পরও এত বেশি সংখ্যক সংযোগ দিতে হবে তা আমাদের ধারনার বাইরে ছিল। তিনি বলেন, শুধু সংযোগ দিলেই হয় না। সেখানের ট্রান্সফরমার, লাইন এবং সাবস্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হয়। এইসব কাজ করতে সময় প্রয়োজন। আমরা অনেক দ্রুত কাজ করছি কিন্তু তাও এই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হবে। এজন্য আগামী বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী অবশ্য বলছেন চলতি বছরের মধ্যে সব ঘরে বিদ্যুৎযাবে। তিনি জানান, দেশের ৯০ ভাগ মানুষের কাছে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে সরকার।

আরইবি জানায়, দেশের ৪৬০টি উপজেলার মধ্যে এই পযন্ত ৭৯টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরও ১৬০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।এছাড়া ৮০টি উপজেলা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। এ হিসেবে ডিসেম্বর নাগাদ ৩১৯টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা যাচ্ছে। বাকি থাকবে আরও ১৪১টি উপজেলা।

উদ্বোধন করা উপজেলারগুলোর মধ্যে গোপালগঞ্জের টু্ঙ্গীপাড়া, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, নরসিংদির পলাশ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১ মার্চ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, কেরাণীগঞ্জ, মুজিবনগর, সাভার, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, দাগনভুইয়া এবং সৈয়দপুরকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করা হয়।

২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের মোল্লাহাট ও ফকিরহাট, দিনাজপুরের হাকিমপুর, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট সদর, ভেড়ামারা, ভৈরব, সীতাকুণ্ড এবং নরসিংদী সদরকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর গতবছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ফরিদপুর সদর, মাদারীপুরের রাজৈর, নওগা সদর, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, মাগুরার শালিখা, মেহেরপুর সদর, নেত্রকোনার মদন এবং নরসিংদীর বেলাবোকে শতভাগের আওতায় এনে উদ্বোধন করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল ধামরাই, কিশোরগঞ্জ নিকলী, চট্টগ্রামের রাউজান, রংপুরের পীরগঞ্জ, কুষ্টিয়ার খোকসা, সাতক্ষীরার দেবহাটা, খুলনার রূপসা, ফুলতলা, দিঘলিয়া, নাটোরের বাগাতিপাড়া, পাবনার বেড়া, সিলেটের বিয়ানিবাজার এবং চুয়াডাঙ্গা সদর শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় উদ্বোধন করা হয়।

এ বিষয়ে আরইবির চেয়ারম্যান কর্ণেল মুঈন উদ্দিন বলেন, ২৩৯টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে।বাকিগুলো দ্রুততার সঙ্গে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি নির্ভর করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে যারা মালামাল বিশেষ করে খুঁটি ও তার সরবরাহ করছে তাদের ওপর।তাদেরকে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই মূহুর্তে আরইবির বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি না।

এইজন্য হয়তো কিছু দেরি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারি।চেয়ারম্যান বলেন, গতবছর ৩৯ লাখ পরিবারকে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে হলে আর মাত্র ৩৬ লাখ পরিবারের মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমাদের এক বছরের কাজ।শর্ত হচ্ছে আমি মালামালগুলো ঠিক সময়ে পাচ্ছি কিনা। এই হিসেবে আমরা সরকার থেকে প্রযোজনীয় অর্থ পাবো সেই প্রত্যাশাও করছি। সবকিছু মিলিয়ে আজ থেকে আর এক বছর লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ৩১ জুলাইয়ের হিসেব অনুযায়ী দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানিতে নতুন সংযোগের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ১১ হাজার ৭৮০টি। এরমধ্যে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪ হাজার ১৭৭টি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। আবেদন জমা আছে ৭ হাজার ৬০৩টি।

news portal website developers eCommerce Website Design