বিদেশে থাকা মেয়রের পরিচয়ে কারাগারে কে?

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান নয় দিনের সফরে ইন্দোনেশিয়ায়। সফরে যাওয়ার পরদিন তিনি ঢাকার এক আদালতে হাজিরা দিলেন দুদকের মামলায়। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। একজন ব্যক্তির পক্ষে একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও কারাগারে অবস্থান করা কী করে সম্ভব?

জানা যায়, গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র আনিসুর রহমান ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পরদিন রবিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় মেয়রের নাম-ঠিকানা দিয়ে এক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেয়রের কারাগারে যাওয়ার খবর প্রকাশ হলে শ্রীপুরের শুরু হয় নানা গুঞ্জন। বিদেশ সফরে মেয়র, কারাগারে গেলেন কোন মেয়র?

তবে মেয়র যে বাংলাদেশে নেই গণমাধ্যমকে সে কথা নিশ্চিত করলেন শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান বাদল ও মেয়রের ছোট ভাই মোকলেছুর রহমান।

পৌর সচিব বাদল বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে শনিবার রাত ১১টায় মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মেয়র নয় দিনের সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন।’

পরদিন তিনি (সচিব) গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন মেয়র কারাগারে। এমন খবরে তিনিও হতবাক বলে জানান।
আজ দুপুরে পৌর সচিব স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, মেয়র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে বিদেশ রয়েছেন। তবে মেয়র সেজে কে কারাগারে রয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। আর মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান সচিব।

শ্রীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন জানান, মেয়র বিদেশ থাকায় তিনি গতকাল (রবিবার) থেকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার জানামতে মেয়র বিদেশ রয়েছেন।
মেয়র বিদেশ থাকার কথা নিশ্চিত করে তার ছোট ভাই মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মেয়রের আস্থাভাজন নূরে আলম মোল্লা নামে একজন যুবলীগ কর্মী মেয়রের নামে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন বলে শুনেছি। তবে মেয়র এখন বিদেশে। শনিবার রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়নবিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গেছেন। তিনি সেখানে ৯ দিন থাকবেন।’

তবে আনিছুর রহমান নামে একজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানান মেয়রের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান নামে একজন রবিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে চার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। চার্জশিটের সঙ্গে তার নাম ও পিতার নাম মিল ছিল। আদালত তিন মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি সঠিক মেয়র কি না এ বিষয়ে কাগজে প্রমাণিত হবে।’

‘মেয়রের’ সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আব্দুল মান্নানকেও কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান আইনজীবী। তবে মেয়র বিদেশ সফরে রয়েছেন এ কথা জানালে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

দুদকের চারটি মামলার মধ্যে এক মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করেন তারা। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।

আরেক মামলায় অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার পাঁচটি হাট-বাজার থেকে সাত লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

অপর দুই মামলায়ও তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনে দুদক।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]