ভদ্রবেশী অমানুষ-সৈয়দা শর্মিলী জাহান রুমি

ভার্চুয়াল জগৎ আমাকে অনেক ভালো ভালো বন্ধু উপহার দিলেও সব সময় ভীতি ও অনিরাপত্তা কাজ করে। তাই বন্ধু নির্বাচনে শুরু থেকেই খুব সাবধান থেকেছি, এ কারণে বন্ধুর তালিকা একশতও পেরোয়নি।এবং যারা আছে তাদের সবার সাথেই খুব সুন্দর সম্পর্ক বজায় আছে।

এভাবেই চলছিল।হঠাৎ একদিন একজন ভদ্রলোকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখে অনেক সময় নিয়ে প্রোফাইল ভালোভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম, খুব ভালো লাগলো। ভালো লাগার কারণের ভেতর ছিল….১. তার ও তার পরিবারের শালীন পোশাক। ২.তার পুরো প্রোফাইলেই স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ্যে কাটানো বর্তমান ও অতীতের চমৎকার ছবি। ৩. তার পিতা-মাতাকে নিয়ে চমৎকার স্ট্যাটাস ও ছবি। ৪.শিক্ষাগত যোগ্যতা। ৫. রুচিশীল ও হাস্যজ্জল চেহারা।…….রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলাম।

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার প্রায় সাথে সাথেই তিনি আমায় মেসেঞ্জারে ধন্যবাদ দিলেন বন্ধু হিসেবে এড করার জন্য।আমিও ধন্যবাদ দিলাম এবং আরও কিছু সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলে বিদায় নিলাম…তার রসিক ও বন্ধুত্তপূর্ণ মনোভাব ভালো লাগলো। দ্বিতীয় দিন তিনি আমায় মেসেজ দিচ্ছিলেন…কেমন আছি? কি করছি? এ ধরণের প্রশ্ন।আমি সময়ের অভাবে জবাব দিতে পারিনি।

সব কাজ শেষে রাতের বেলা আমার লিখালিখি বা বই পড়ার অভ্যাস ছোট থেকেই। এমন সময় আবার ভদ্র লোকের মেসেজ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিদায় নিলাম।প্রথম পরিচয়ে এর বেশি প্রয়োজন মনে করিনি।
একঘন্টা পর আবার মেসেজ। এবার বিরক্ত লাগছিল…তবে মনে হচ্ছিল তিনি আমায় কিছু বলতে চান তাই লিখালিখি বন্ধ করে মেসেঞ্জারে গেলাম।

প্রথমেই বললাম, দেখুন রাতে আমি অনলাইনে লিখালিখি করি অথবা পড়ি ….এ সময় আমি কারও সাথে কথা বলিনা। উনি “সরি” বলে বিদায় নিতে চাইলেন কিন্তু আমার মন খুতখুঁত করছিল বিদায় নিলাম না…তাকে তার কথা বলার সুযোগ দিলাম।

তিনি জানালেন, আমি রাজি থাকলে আমার সাথে তিনি প্রেম করতে চান….স্ত্রীর সাথে তিনি সুখী নন। এবং আমার সাথে দেখা করতে চান।এরপর আর কথা বলা প্রয়োজন বোধ করলাম না, সাথে সাথে ব্লক করলাম।

চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে বসে রইলাম কতক্ষন। একেই বলে জ্ঞানপাপী! ….পুরো প্রোফাইল তিনি স্ত্রী-সন্তান-পিতা-মাতার চমৎকার ছবি ও স্ট্যাটাস দিয়ে সাজিয়েছেন …আত্মীয়-স্বজন ও মানুষের চোখে ধূলো দেবার জন্য।আড়ালে আবডালে এই করে বেড়ান। অবশ্যই আমার সাথেই প্রথম করেননি এমন।ভদ্রবেশী অমানুষ!!

বারবার মনে পড়ছিল স্ত্রীর মিষ্টি সুন্দর চেহারা এবং সন্তানগুলোকে, তার পিতা-মাতার মুখগুলোকে…নিজ আত্মা ও রক্তের সাথে এতবড় ধোঁকাবাজি! ….যৌবনের শক্তি ফুরোলে শেষ জীবনে তো এদের কাছেই ফিরতে হবে…. বয়স ও পাপের ভারে নিঃশেষিত জীবনের দায়িত্ব নিবে থাকবে কি এমন কোন যুবতী সুন্দরী প্রিয়তমা! ….বৃদ্ধ বয়সে সর্দি, বমি, কিংবা পরিধেয় বস্ত্র নষ্ট হলে কাদের উপর নির্ভর করবেন ভেবে দেখেছেন ??? টাকার বিনিময়ে পাবেন কি সুগন্ধী দ্রব্য আর চমৎকার মেকআপ করা সুন্দরী যুবতীকে…যে তাকে নোংরা থেকে পরিষ্কার করবে?? পরকালেই বা কি প্রাপ্তি? আর কেউ না দেখুক উপরওয়ালা তো সব দেখেছেন?…..

পাপ করে কেউ শান্তি পেয়েছে এমন দেখিনি জীবনে, এরা মানসিক যন্ত্রনায় ভোগে ঠিকই স্বীকার করে না বরং পাপের যন্ত্রনা ভুলতেই এরা একটার পর একটা পাপ করে যায়,আনন্দ খুঁজে নেয়….কিন্তু আসলেই কি আনন্দ পাওয়া যায়??….যৌবনের সব মধু মিছড়ির ছুরি হয়ে ঠিকই বিদ্ধ হয় নিজ বুকেই.
….সময় খুব নিষ্ঠুর ঠিকই জবাব দিয়ে দেয়….