দীলতাজ রহমান’র গল্প ‘মেঘে ফোটা তারা’ : পর্ব-৩

– কেন পারে না! কতজন যাচ্ছে। মুনমুন গেলো না? তবে ইচ্ছে করলেই যেকেউ যেতে পারে না। টাকার ব্যাপার, ভালো রেজাল্টের দরকার…। যারা ভিসা দেবেন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা…। রীতিমত কসরত চালাতে হয় নিজেকে নিয়ে…। কিন্তু দেখছো না এখন তো তোমার সঙ্গে আমাকেও সংসারের জোয়াল টানতে হচ্ছে। না হলে তুমিও তো একা পেরে উঠবে না।

– অলক্ষ্মীর মতো কথা কইও নাতো! তুমি বুজি সুংসারের কাম করতি পইড়্যা থাকপা?

স্বাতীর কথার ভেতরেই যেন ময়েন তাকে দূরে সরানোর উপায় খুঁজে পেয়ে যায়, সে সমীরের মুখে দৃষ্টি তীরের মতো বিঁধিয়ে বলে ওঠে, ‘তোমরা ওর বন্ধুরা, ওরে তোমরা কেউ তোমাগের সাতে নিয়া যাতি পারো না?’

সমীর কিছুটা ভড়কে যায় যেন, ময়েনের কথাগুলো আক্রমণাত্মক শোনায় ওর কাছে। তবু সে বলে, ‘হ্যাঁ চাচা পারি…।’ স্বাতী ময়েনের কথাগুলোকে বাতুলতা মনে করে বলে উঠলো, হ্যা আমি সবই করবো, কিন্তু চাচা তুমি দয়া করে ওর সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চেয়ো না। আর ও তো হিন্দু… তাছাড়া বয়সে সমান বর আমার পছন্দ নয়…।’ সমীর হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়। স্বাতী গম্ভীর হয়ে ময়না চাচার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কিছুটা ভর্ৎসনার স্বরেই বলে ওঠে, তুমি কি সত্যি আমার বিয়ের কথা ভাবছো? কিন্তু কেন? তুমি ভাববার কে…।

ময়েন উত্তর দিতে কথা খুঁজে পায় না। ছুরির তীক্ষ্ম ফলটি যথার্থই গেঁথে গেছে বুকে। তবু যেমনটি দাঁড়িয়েছিলো তেমনি দাঁড়িয়ে থাকে। আর তাতেই আরো তেতে ওঠে স্বাতী। ঝাঁঝিয়ে বলে ওঠে, সে ভাবনা তো আমার বাবার! তোমাকে কি তিনি আমার দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন?

কঠিন একটা কিছু বলতে গিয়েও পাথর গেলার মতো ময়েন গিলে ফেলে। পাকিয়ে ওঠা কষ্টের গোলাটি কণ্ঠনালী চেপে রাখে অনেকক্ষণ। ময়েনের দৃষ্টি চৈত্রের ফাটা মাঠের মতো খটখট করে স্বাতীর চোখের মণির উপর। অনধিকার চর্চার বাহুল্য নয়, বরং দায়বোধের কাঠিন্য ভেসে থাকতে দেখে সে তাতে। তারপর নিজেই চুপসে যায় ফুটো বেলুনের মতো। দ্রুত সেখান থেকে না পালিয়ে পারে না। নিভৃতে নিবিষ্ট হতে মায়ের পরে এই একজন মানুষ ছাড়া তার আর কাউকে মনে পড়ে না ছায়াদায়ক। ধড়ফড় করে আবার উঠে পড়ে সে ময়না চাচার খোঁজে। মূর্খ ময়েনউদ্দিনের মাথার মধ্যে অন্য চিন্তা ঢুকে গেলো দুশ্চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে। ‘হতভাগী, পোড়া কপালীডারে কোনোদিন জানানো যাবে না কে তার বাপ! তাহলি আর ক্ষতির পূরণ অবে না।’ ঘুম আসে না ময়েনের। দিনের কাজেকর্মেও ভুলভাল লেগে আছে।

সাবিহা বেগমের এক ভাই ঢাকায় থাকেন। বড় চাকরি করেন। ‘মাইয়াডারে তার কাছে নিয়া উঠোলি কেমুন অয়’ ভাবতে থাকে ময়েনউদ্দিন। কিন্তু তাতেও সমস্যার কূল দেখে না সে। কারণ বাড়ির কর্তার স্পষ্ট মতামত দরকার। তবু এক সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন হাঁটতে হাঁটতে সাবিহা বেগমের বড় ভাইয়ের বাসায় চলে যায় ময়েন। ফিরোজ সাহেব বাসায়ই ছিলেন। ময়েনকে দেখে আত্মীয়তার সুরে, কোমল-আর্দ্রস্বরে ডেকে বসালেন। বহুদিন পর বোনের স্মৃতিকাতরতায় বিহবল ফিরোজ সাহেব বোনের পালিতের কথা দিয়েই শুরু করেন, ওই মেয়েটি কেমন আছে? ভালো তো?

– হ! বালোই আছে… মাইয়াডার আর লেহাপড়া অবে না বড় ভাই! ওয়ার মা’র কত আশা ছেলে মাইয়ারে ডাক্তার বানাবে। ময়েন প্রথম প্রশ্নেই সব উগরে দিয়ে হালকা হলো। ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী ময়েনের আগমন টের পেয়ে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন- ‘স্বাতী কেমন আছে? মেয়েটা বহুদিন আসে না। আমারও খোঁজ-খবর নেয়া হয়ে ওঠে না।

– মাইয়াডারে নিয়া আমার বড় বয় অচ্ছে বাবিসাব!

– কেন?

– সে যে ও-বাড়ির মাইয়া না, এ খবর গোপন থাকপে না। ওই নতুন বেগমসাব ফন্দি আঁটতিছে, কথাডা ওরে কইয়ে বাড়ির বার করে।

– না, জামিল অতো বিবেচনাহীন নয়। সে সামলে নেবে। তুমি এতকিছু ভেবো না।

– তাই যেন অয় বাবিসাব! তাই যেন অয়… বলতে বলতে বেরিয়ে আসে ময়েন। সামনের দিকে ছুটতে ছুটতে সে শুনতে পায় ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী’র কণ্ঠ- ‘স্বাতীকে আসতে বলো! বলো বড় মামী যেতে বলেছে…।’

ময়েন দরজায় টোকা দিতেই বেশ কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দিলো অনিমা খানের ছেলে, মণি। তার পাশেই বিমর্ষ হয়ে দাঁড়ানো ঋতি। ময়েনকে দেখেই দু’জনে একসঙ্গে যথাসম্ভব নিচুস্বরে বলতে লাগলো ‘মা তোমার স্বাতীকে বকেছে! কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেছে তোমার স্বাতী। আমরা বলেছি তা মাকে বলো না।’ এতদিনে ছেলেমেয়ে দুটি স্বাতীকে আপা ডাকতে শেখেনি। ওদের কথায় রি রি করে জ্বলতে থাকে ময়েন। কিন্তু স্বাতীরও কোনো শব্দ পাচ্ছে না সে। মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়লো কী?

এত বড় মেয়ের আলো অন্ধকার মেশা ঘরে সে চুপি দেয়ইবা কী করে? তিরতির করে ঘামতে থাকে ময়েন। শঙ্কাটি ক্রমশ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। যে ভয় সে পেয়ে আসছিলো, তাই জাঁকিয়ে ধরে। শেষে কিনা অনিমা খান সত্যটি ফাঁস করে দিলো! খুব তো বেশি বলার দরকার নেই! তেমন কিছু ঘটলো কিনা। ভেবে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে এবং তা পানিতে নয়, যেন ছানি পড়েছে ময়েনের চোখে। সে অনেকক্ষণ কিছু দেখতে পায় না। তার পায়ের নিচ থেকে দ্রুত মাটি সরে যেতে থাকে। হামাগুড়ি দিয়ে এগোয় সে।

সাহেব এমনিতে রাত করে ফেরেন। সময় থেমে আছে ময়েনের। কী বলেছে নতুন বেগমসাব স্বাতীকে! ভেবে, ওই এক চিন্তাতে গিয়ে ঠেকে। রান্নাবাড়া সব বন্ধ। অনিমা খান এগিয়ে এসে কিছু বলছে না। ময়েনের ভয় আরো বাড়তে থাকে- ‘বদ মেয়েলোকটি চুপসে যখন আছে, তখন আর রেখে কথা বলেনি স্বাতীকে।’

রাত ক’টা? ডোর বেল বেজে উঠতেই ময়েন হোঁচট খেতে খেতে ছুটে দরজা খুলে দেয়। জামিল সাহেব ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ফুঁপিয়ে ওঠে ময়েন, তার আহত, ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠ থেকে শব্দগুলো ছেঁকে নিলেন জামিল সাহেব, ‘বাইজান মাইয়াডার কী অইছে এট্টু দ্যাহেন!’ জামিল সাহেব হাতের ব্রিফকেসটি সোফার উপর ছুড়ে ফেলে স্বাতীর ঘরে ঢুকে সুইচ টিপে লাইট জ্বালালেন। স্বাতী অঘোরে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু শোয়ার ধরনটি দেখে জামিল সাহেবও চমকে ওঠেন ময়েনের মতো। ফুল স্পীডে চলা ফ্যানের নিচে শুয়েও ঘামে ভেসে আছে স্বাতী। ভেজা জবজবে মুখ থেকে ত্রস্ত হাতে, ঋজু দেহ, দৃঢ় ব্যক্তিত্বের, কঠিন প্রাণ এক বাবা জামিল সাহেব, মেয়ের চুলগুলো সরিয়ে দিতেই এই ক’মাসের ভেতর প্রথম তার চোখে বিপর্যয়টি ভেসে ওঠে।

বহুদিন তিনি তার সন্তানটির এত কাছে আসেননি। কখনো ডাকেননি। স্ত্রীর কোলে বেড়ে ওঠা এই পোষ্যটিকে আদৌ তিনি নিজের করে ভাবেনওনি কোনোদিন। যদিও স্ত্রী’কে বাঁচিয়ে রাখতে এর ভূমিকা অপরিহার্য ছিলো। কখন সেই মেয়েটি এত বড় হয়ে গেলো তারই আদলে, তারই পরিচয়ে, জীবনযাপনের একই ধারায়, একই বাড়ির পরিসরে থেকে! কেন সে মেয়েটিকে অনেকখানি অচেনা করে রাখলো? ওর মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রচ- অপরাধী মনে হয় জামিল সাহেবের। মনে মনে অনেক কিছু বললেও উচ্চারণ করতে পারলেন শুধু- বড় অবিচার হয়ে গেছে ওর প্রতি!

একদিন যে তার শূন্য গৃহটি আচমকাই ভরিয়ে তুলেছিলো বিপর্যয় ঠেকিয়ে, তাকে কেন তিনি তার নিজের মতো করে দেখেননি? যদিও তার অমর্যাদা, অযত্নও করেননি। খুব কাছের মানুষ ছাড়া প্রায় কেউই জানে না মেয়েটি তার নয়। নিজের অপারগ কর্তব্যগুলোর ফণার বিষে ময়েনকেই তিনি ধমকে ওঠেন- কী হয়েছিলো আজ বাড়িতে?

– আমি জানি না সাব!

– জানো না, ছিলে কোথায়?

– আজকাইল শ্বাসকষ্ট দেহা দিছে আমার। বাড়ির বাইরে থাকলিই বালো থাহি। এট্টু বাইরে ছিলাম সাহেব! আইস্যা শুনি স্বাতীরে বেগম সাব বকছে…।

ময়েনের মুখের কথা শেষ হতে পারে না। হনহন করে ঢুকে পড়লেন জামিল সাহেব তার নিজের রুমে, তারপর স্ত্রী অনিমা খানের উদ্দেশ্যে সাম্ভাব্য কৈফিয়তগুলো তীব্রস্বরে উচ্চারণ করতে লাগলেন। অনিমা খান তখনই মুখ না খুললেও পরে যা বললো কুরুক্ষেত্র বেঁধে যাওয়ার মতো ছিলো। বাদানুবাদ সারারাত চললো প্রায়।

সারারাত ঘুমোয়নি ময়েন। ইদানীং ঘুম তার থেকে দূরেই থাকে। কিন্তু আজ আর এলোই না। দুশ্চিন্তা ঘিরে আছে তাকে। ভাবছে, ‘রাতভর স্বাতীর কোনো সাড়া নাই, গুমের বড়িটড়ি খায়নাই তো?’ বারান্দা থেকে ময়েন উঠতে পারেনি। মশার কামড় আর অনিমা খানের হিংস্র মুখচ্ছবি, তার খটখটে চোখ দু’টো বন্ধ পর্যন্ত করতে দেয়নি। তার হিসেব কষা হয়ে গেছে, এখানে আর থাকার নয়।

অন্ধকার ক্ষয়ে সূর্যের আলোয় বাড়িটি ভেসে উঠেছে। পাশের বাড়ির জামগাছের ঝুলেপড়া ডালটি এ-বাড়ির দোতলায় স্বাতীর রুমের জানালা গলিয়ে যেন ঢুকে পড়তে চাচ্ছে বহুদিন থেকে। স্বাতীই তা ছাঁটতে দেয় না। ও বাড়ির মালিক কতদিন তার অবাধ্য শৈশবের মতো ডালখানার জন্য বিনয়ী ভঙ্গিতে জামিল সাহেবের বাড়ি এসে কাটার অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। স্বাতীর মতো জামিল সাহেবও তা হতে দেননি। বরং বেয়াড়া ডালখানার জন্য দু’বাড়ির মানুষের মধ্যে আসা-যাওয়ার একটা সূত্র তৈরি হয়েছিলো।

যখন তখন পাখিরা উড়ে এসে কিচিরমিচির করে ঘরে বসে। ভারি মজা পায় স্বাতী এতে। সাবিহা বেগম ডালখানার এতখানি বাড়-বাড়ন্ত অবস্থা দেখে যাননি। বছর পুরতে চললো প্রায় মানুষটা নেই। ময়েন আর ভাবতে পারে না। নিজের মেয়ের ঘরে ঢোকার সাহস সে সঞ্চয় করতে পারে না। কত রকমের দেয়াল এ পৃথিবীতে, আর সবই তো মানুষের তৈরি! কিন্তু একমাত্র আত্মজার সঙ্গে এ দেয়াল  তৈরি করে নিতে তার কোনো কষ্ট তো সে আগে টের পায়নি! একটি চিড় হঠাৎই ফাটলে পরিণত হয়ে যায়।

দরজায় টোকা দেয় ময়েন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। ভেজানো দরজাটি খুলে ফেলতে শক্তির প্রয়োজন হলো না। কিন্তু একি? এ কাকে দেখছে ময়েন! যেন বহু পথ ভেঙে ছুটে আসা বিধ্বস্ত কেউ, ব্যর্থ যাত্রার গ্লানি আর ক্লান্তিতে একাকার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। কাঁধ ছুঁয়ে কাটা লালচে রেশমের মতো চুলগুলো অবিন্যস্ত। চোখ-মুখের লালিত্য, সজীবতা, সাবলীলতা সব উবে গেছে। স্বাতী জেগে বসে আছে কতক্ষণ বুঝে উঠতে পারে না ময়েন। এগিয়ে গিয়ে মাথায় হাত রেখে বললো, ‘তুমি জাইগে বইসে আছো, আমারে ডাকপা না? আমি তো সারারাত তোমার দরজার কাছে বইসে আছি!

স্বাতীর দৃষ্টি জালানার বাইরে, বহুদূরে। বিচ্ছুরিত আলোয় মেঘের মতো বহুমাত্রিক বোধ নিয়ে খেলছে সে। ময়েন থোকা থোকা সবুজ পাতাগুলো দুহাতে ঠেলে বাইরে পাঠায়। ওরা নিজেদের সম্মিলিত ভারে আবার এসে উপচে ঢেলে পড়ে ভেতরে। ময়েনের হাত সজোরে পুরো ডালখানাই ধাক্কা দেয়, এতে পাতাগুলো যেন ঠেস মেরে থাকে গ্রিলে। আলো সেই ছায়ার মতোই। উজ্জ্বল হয় না ওরা দু’জনও কেউ কারো কাছে। পাখিরা উড়ে উড়ে কিচির মিচির করতে থাকে। দুটো মানুষের এমন সরব উপস্থিতি অন্যদিনের চেয়ে আজ বিঘœ ঘটায়। তবু ওদের আচরণ নির্ভয়। ময়েনের চোখ স্বাতীর মুখে স্থির। কিন্তু ওর নিশ্চল দৃষ্টি দেখে ভয়ে ধস নামতে থাকে বুকের ভেতর। ঘোলা পানিতে সে নিজে তলিয়ে যাওয়ার মতো কিছু দেখতে পায় না। দমও আটকে আসে। স্রোতের বাড়ি খেয়ে আধমরা হয়ে উঠে আসার মতো স্বাতীর আচমকা প্রশ্ন আবার যেন এক চিলতে ফুরসৎ পায় দম আসতে। ‘ময়না চাচা, আমাকে তুমি কোনখান থেকে এনেছিলে এ বাড়িতে?’

– তো…তো…তোমাকে আমি…? আমি আনতে যাবো কেন? তুমি তো এ বাড়িরই মেয়ে! সাবিহা বেগম তোমার মা।

– আমাকে ভুলিয়ো না চাচা, আমি সব জেনে গেছি!

– মিথ্যে জানাইছে তোমারে! সৎ মা’য়েরা ওইরমই কয়! জানো আমাগের সৎ মা ছেলো। আমার মা মরলি আমার বাপ আরেকটা বিয়া কইরা আনছিলো। বাঁজা বিটি! ছাওয়াল-মাইয়ে অয়নাই বইলে আরো দুইহানে তারে রাহেনাই। সেই বিটিও আমাগে প্যাটটা বইরা ভাত খাতি দেই নাই। শ্যাষে নিজিরা কামাই কইরা প্যাট বইরা বাত খাইছি! বেটি মরলি আমাগে আঁড় জুড়োইছে! বিটি মরছেও আমাগি বাপ থাকতি থাকতি…।

– আমি তোমাকে ভাতের কথা বলিনি, আমার অস্তিত্বের কথা জানতে চাইছি চাচা! আর তা কেবল তুমিই জানো।

– না আমি কিছুই জানি না! আমি আইসা তুমারে মায়ের কোলে এ্যাক বছরের পাইছি! ময়েনের কণ্ঠে জোর নেই। সব ফাঁকি ভেসে উঠছে তার শব্দের জোড়াতালির ভাঁজে ভাঁজে।

– চাচা চলো আমরা কোথাও চলে যাই! স্বাতীর চোখ ময়েনের দিকে নয়, তখনও আকাশের দিকে। দিগন্তের রেখাটি চোখের পাতায় উঠে এসে যেন সব কূল ভাসিয়ে দিয়েছে তার ভালোবাসার পল্লবিত প্রচ- ডালখানির ফাঁক-ফোকর গলিয়ে। আর সেই নিশানায় চোখ মিলিয়ে খেই হারানো ময়েন অবচেতনে বলে ফেললো‘কোনহানে যাতি চাও? কও।’

– যেখান থেকে আমাকে এনেছিলে, আমার সেই একবছর বয়সের গ্রামে!

– ইচ্ছা করলিই আর সব গন্তব্যে ফেরা যায় না রে মা!

– কেন যাবে না? আমি তো তোমাকেই বলছি! যে তুমি একদিন বুকে জড়িয়ে আমাকে এই বাড়িতে এনেছিলে!

– তাই বুলে এহন কার কাছে যাবা?

– আমার মার কাছে! আমার বাবার কাছে।

– কিন্তুক তোমার যে কেউই নাই! মা-বাপ দুইজনেই মরছে। ডুকরে কেঁদে ওঠে মিথ্যাচারে দোদুল্যমান ময়েন, থামে না তবু বলতে থাকে, মা-বাপ থাকলি কি কেও কাওরে ভিটেছাড়া করে?

– তাহলে তুমি কেন একা আমাকে মানুষ করোনি?

– তুই একজন ভালো মা পাবি বুইলে… ক্যা তোর মা সাবিহা বুবু তোরে ভালোবাসে নাই? আল্লারে সাক্ষী রাইহ্যা ক তুই।

স্বাতী কাঁদছে। ঠিক তার মা সাবিহাকে শাদা কাফনে মুড়ে শেষবার বাড়ির থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময়ের মতো। সেদিন অনেকের কণ্ঠের সঙ্গে তার কণ্ঠ মিলে একাকার হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আজ সে একা নিজের উথলে ওঠা ঢেউয়ে মতো ভেঙে ভেঙে বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

বারান্দায় কেউ নেমে আসছে না। ময়েন কার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নেমে যাবে এ বাড়ি থেকে? তার এ স্বপ্নসৌধ থেকে শেকড় উপড়ে যেতে হবে যে, ফেরার সব পথ বন্ধ করে। যেখানে রেখে তার সন্তানের কাছে নিজের পিতৃত্ব বিসর্জন দিয়েছিলো। সে কি শুধু সে ভালো থাকবে সেই আশায়? আর কিছু ছিলো না? অন্যকে পূর্ণ করতে নিজে শূন্য হয়ে গেছে। আজ সে যেকোনো ভার বহনের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে।

বড় ইচ্ছা করে মেয়েটিকে বলে ফেলে, ‘আমিই তোর বাপ!’ কিন্তু গলাটা বুঁজে আসে। আকাশমুখো ঘুড়িখানিরে সে কোন পরানে টেনে নামায়, তাতে কাদা-মাটি লাগায়?

আশপাশে কাউকে দেখা যায় না। ‘সাহেবেরে একবার না কলি অয় না! এ যে জনমের বিদেয়! একবার শুধু কইয়া যাই, তয় তাই হোক সাহেব, অরে নিয়াই যাই। যে পাখিডারে আমি আনছিলাম, তারে খাঁচায় রাহার সাইধ্য আর আমার নাই। তয় উড়াইয়া দেয়ার ক্ষ্যমাতাডা আমার আছে। শেষ পর্যন্ত সেইড্যাই য্যান থাহে। আপনেও তো মাইয়াডারে কম বালোবাসেন নাই! কথাগুলো আর ময়েনের বলা হয় না। অনিমা খানের বাচ্চা দু’টোকে দেখলেও হতো। না হয় ওদের বলে নেমে যেতে পারতো। বলতো, তোরা থাক বাবা! আমরা যাই। খালি গেটখানা লাগাইয়্যা দে। এ বাড়ির প্রত্যেকেটা জিনিসে একজনের আতের ছুঁয়া নাইগা আছে। তাই তো এত দোনামোনা! তাই তো এত পিছন ফেরা! বিড়বিড় করতে থাকে ময়েন। কখন স্বাতীর কান্না থেমে গেছে, ময়েন আস্তে করে বলল, চল মা। চইলা যাই। স্বাতী বিনা বাক্যে উঠে দাঁড়ায়, যেন এ তার বহুদিনের প্রস্ততির যাত্রা।

বাড়ি থেকে বের হয়ে ময়েন সদর দরজাটি আবার ভেজিয়ে রাখে। তারপর কখন আবার আরেকটি দরজায় টোকা মারে, বড় শঙ্কা তাতে। গত সন্ধ্যায় সে যেখানে এসেছিলো একটু সমাধানের আশায় আজ সেখানেই এসে ঠেকেছে তার সবটুকু নির্ভরতা। ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী দরজা খুলে দিলেন। ময়েন তাকে দেখেই তার পায়ের উপর লুটিয়ে পড়লো। ফিরোজ সাহেবের স্ত্রী’র বুঝতে বাকি রইলো না কিছুই। তিনি নিজেকে ময়েনের অশ্রুজল থেকে সরিয়ে, নির্বাক স্বাতীকে টেনে নিয়ে নিজের রুমে ঢোকেন। সব শুনতে চেয়ে আঁচ করতে চান পরিণতি। সন্ধ্যায় নয়, ফিরোজ সাহেব অফিস থেকে ফিরলেন একেবারে রাত করে।

ময়েনকে অমন মিইয়ে থাকতে দেখে তিনি আজো গতকালের মতে প্যাঁচাল আশঙ্কা করেছিলেন। দু হাঁটুর মধ্যে মাথা রেখে বসা ল্যাজবেজে ময়েনকে দেখে তিনি ‘কীরে আবার কোন সমস্যা হলো?’ বলেই উত্তরের অপেক্ষা না করেই হনহন করে বাড়ির ভিতর মহলে ঢোকেন। পরে স্বাতীকে তিনি একটু ভড়কেই গেলেন। কারো মুখে কথা নেই। এমনকি তার ছেলেমেয়ে দু’টিরও না। খেতে বসে ফিরোজ সাহেব ভাবাছিলেন তার নিজের কথা। যেকোনো ধাক্কা মানুষকে আত্মমগ্ন করে। নিজের কথা ভাবায়। অতীত-ভবিষ্যৎকে টেনে একেবারেই বর্তমানের বুকে ত্রট্টশের মতো বিদ্ধ করে দিতে চায়। জীবনে হলো না যা, তাই কেবল চোখে ভেসে ওঠে। সীমাদ্ধতা ক্রমশ আরো সংকুচিতই হতে থাকে। আপনজনদের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি থেকে যায় কত। তার উপর আবার…।

নাহ্ সুস্থ সুরাহার উপায় তিনি পাচ্ছেন না। একটা পরিমিতিবোধ তারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে, এতে তার দ্বায়িত্ব কতটুকু? করণীয়ই-বা কী? রাতের খাওয়া সেরে, বেডরুমে ঢুকলেন তিনি। দু’টি বালিশ একত্র করে হেলান দিয়ে দিয়াশলাইয়ের কাঠিটি জ্বেলে মাত্র দু’ঠোঁটে চেপেধরা সিগ্রেটটিতে অগ্নিসংযোগ করতে যাবেন, এমন সময় ময়েন এসে পাশে দাঁড়ালো। ফিরোজ সাহেব পরিবারের সদস্যদের প্রতি ভব্যতা রাখতেই খালি কপাল কুঁচকে থাকলেন, বললেন না কিছুই। কিন্তু ময়েন আর একটু দেরি করলে তার সে বাঁধও ভেঙে যেত হয়তো। ময়েন ভিতরে এসে ঠায় দাঁড়িয়েই থেকে শেষে বলতে শুরু করলো ‘বাইজান, আপনাগের কাছে আমি কিছছু চাই না। খালি মাইয়াডারে সমাজে মাথা উঁচা কইরা বাঁইচা থাহার এট্টা পত কইরে দেন! টাকা-পয়সা আমি দেবো!’

মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার পথ? কতটা উঁচুর ঠিকানা ময়েনের জানা আছে? ফিরোজ সাহেব খাবি খেতে শুরু করেছিলেন মাত্র। কিন্তু ময়েন টেনে ধরলো যেন তাকে আরো দূরে ছুঁড়ে ফেলতে। ময়েন আবার বলতে শুরু করলো, বাইজান আমার বিশ বছরের বেতন… বুবু আমারে ঠকায় নাই। আমার বাপের কালের কিছু জমিজমা আছে। এহন সেটুকির দামও কম না। তারপর বুবু মরার সুমায় আমার কাছে ওর জন্যি কিছু নগদ টাকাও রাইহা গেছে… আমি অবশ্য তা খুলে দেহিনি। স্বাতীর সাতে যারা লেহাপড়া করতো তারা অনেকেই তো বিদেশ চইলে যাচ্ছে… ওরেও আমি অমন দূর কইরে দিতি চাই বাইজান! আপনে খালি ব্যবস্থাডা কইরে দেন!

ময়েন কথা শেষ করতে পারে না। ধরাগলা নিয়ে ফিরে চলে যায় ড্রয়িংরুমে, অভ্যাসমতো কার্পেটের প্রান্তসীমা ছেড়ে বসে। তারপর দু’হাঁটুর মধ্যে মাথা রেখে আবার আগের মতো ঢুলতে থাকে। ফিরোজ সাহেব এতবড় একজন সরকারি কর্মকর্তা, অথচ তিনি কখনো ভাবতেই পারেননি ছেলেমেয়েদের বিদেশ রেখে লেখাপড়া করাবেন। ময়েন তার সমস্ত অস্তিত্বে ঝাঁকুনি দিলো যেন।

তবে টাকার ব্যবস্থা হলে বিদেশে লেখাপড়া করতে যাওয়ার ব্যবস্থা তিনি করে দিতে পারবেন। তার ছোট ভাইটিও তো অস্ট্রেলিয়ার থাকে! অস্ট্রেলিয়ার লেখাপড়ার খরচও কম। প্রয়োজনে ছোট ভাইটিও চালিয়ে নিতে পারবে কিছুটা। তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে সাবিহার ভাগ রয়ে গেছে। সে বেঁচে থাকলে চাইলেই দিতে হতো… আর মেয়েটি লেখাপড়ায় ভালো বলেই তার জানা। সাবিহার সঙ্গে কথা হলে তো শুধু তার মেয়ের গুণ গাইতেই মুখে ফেনা তুলতো।

বুকটা হঠাৎই ব্যথায় মোচড় দিয়ে ওঠে ফিরোজ সাহেবের। এ দায় তো তারও অনস্বীকার্য ছিলো। কিন্তু বোনটি নেই বলে, মেয়েটিকে তো সে আলাদা করে কোনোদিন দেখতে যায়নি।

মেয়েটি যা পেয়েছে তাদের কাছ থেকে, তার চেয়ে সে দিয়েছে অনেক বেশি! ওকে ছাড়া সেদিন সাবিহাকে বাঁচানোই যেত না। শুধু উল্টো করে এই ভাবনা কোনোদিন তারা কেউই ভেবে দেখেনি! জীবনের মোড়টা কোনদিকে ঘুরতে যাচ্ছে, সে ভাবনা বিশ-একুশ বছরের মেয়েটিকে মোটেও তোলপাড় তুলছে না, যতটা ভাঙচুর করছে তাকে। তাকে নিয়ে বাড়ির পরিচারকের উৎকণ্ঠা। অবশ্য এখন এটাই স্পষ্ট সেই তার অবলম্বন। একটা সতেজ লতা যেভাবে প্রতি মুহূর্তে একটি নির্জীব, বর্ধিষ্ণুহীন খুঁটিকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে, বেঁচে থাকে।

তাকে ওভাবেই বাঁচতে হয়! ওটাই তার নিয়তি। তবু একটা সন্দেহের কাঁটা অহংবোধের কোথাও দুঃসহ ঠেকে।

ড্রয়িংরুমে কু-লি পাকিয়ে পড়ে থাকা ময়েনকে ভোররাতে টেনে তুলে স্বাতী হিমস্বরে জানতে চাইলো, ‘কে তুমি? তুমি আমার বাবা নও তো? সত্যি করে বলো?’ ভয়ে ময়েনের অন্তরাত্মা শুকিয়ে আসে। এক স্বাতীকে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া ফেরাতে পারেনি সাবিহা বেগম। কিন্তু ময়েন তার সাথীকে প্রাণপণে টেনে ধরে। সাবিহা বেগমের কথাটি আজও ময়েনের কানে ঝনঝন করে বেঝে উঠলো, ‘স্বাতী একটি নক্ষত্রের নাম! তুই এর মানে বুঝবি না।’ না তার মানে বোঝার দরকার নেই।

মানে সে না-ই বুঝুক! তবে অন্যের আমানত সে বোঝে। ‘আর নক্ষত্রেরা তো দূরিই থাহে!’ তারে নামানোর মতো অন্যায়, হীন কাজ ময়েন করতে পারে না। দিনে দিনে যা দূরে সরিয়েছে, আজ এই মুহূর্তে তাকে নিজের করে, এত শক্তি ময়েনের নেই। জীবনের শুরুতে, কাঁচা বয়সে নিজের সম্পদটুকু অন্যের দুঃখ দেখে যে তুলে দিয়েছিলো, কোনোকিছু না ভেবেই। আজ এতদিন ধরে বিসর্জনের মহিমায় যে তৈরি হয়েছে, তার তো লোভ মানায় না! ময়েন থতমত খেতে খেতে তার মতো করেই বলতে লাগল :

– ‘আমি তোমার বাবা অতি যাবো ক্যান? তুমি আমার মাইয়া অলি তো আমার গেরামেই ফিরা যেইতাম! এত্তো হাঙ্গামার দরকার ছেলো? বাপ তুমার যে-ই ওক, তয় তুমার মা আমার সাবিহা বুবু! খালি তার মনের আশাডা পূর্ণ করতিই আমার জীবনডা আমি কোরবানি করতি পারি।’

– তুমি তোমার গ্রামেই আমারে নিয়া চলো চাচা! আমার এখন কোনোখানে মন টিকছে না। চলো চাচা আমরা সবখানে ঘুরে বেড়াই! মানুষের কতরকম কষ্ট আছে আমার এখন জানতে ইচ্ছে করে!

– চান্দেরে আসমানেই শোবা পায় মা! তোমার মা-বাবায় চাইতো তুমি ডাক্তার অবা! আর আমিও কি চাই নাই? এতোডা বছর কেমন কইরা চইলা গেলো… স্বপ্নের মতো মনে অয় সব…। তুমি যাও তো গুমাও যাইয়া। আমি কয়দিনের জন্যি দ্যাশে যাচ্ছি। এদিকি যা করনের নাগে তোমার মামা কইরে দিবেনে। এরা বড় বালো মানুষ! তুমি লেহাপড়াডা বালো কইরে করো একয়দিন। য্যান কোনোহানে না ঠেহো। তোমার সেই বন্ধুগিতে পরামর্শ নেও, যারা বিদ্যাশ গ্যাছে। যারা যাচ্ছে…। তুমি কিন্তুক ভয় পাইও না। যত উপরে উঠপা ততই উপরের মানুষগুনো তোমার আপন অইয়ে ওঠপে। সংখ্যার দিকদি অয়তো তার বেশি অবে না, কিন্তু সবকিছু মাইনে নিতি ততদিন তোমারও মনডা তৈরি অইয়ে যাবি। দেহো না জোয়ারের পানি কেমন টলটল হরে? ওই পানি থাইমে গেলিই শ্যাওলা দরে! কোনো কিছুতি নিজির ছোট ভাববা না। থাইমে যাবা না! মানুষির পরিচয় সে নিজি!

 

ময়েন উদ্দিন ফিরে এলো একমাসেরও বেশি সময় পরে। এই ক’দিনে তার বয়স প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এই ধকলের ব্যপ্তি ফিরোজ সহেব আঁচ করতে পারেন। অর্থের পরিমাণ দেখে তিনি বুঝতে পারেন, সব গেছে হতভাগাটার! ফিরোজ সাহেব স্বাতীর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার ব্যাবস্থাটা করতে পেরেছেন। টাকাপয়সা অপর্যাপ্ত হলেও খরচের দিকটা আটকালো না। ফিরোজ সাহেবের এক ডাক্তার বন্ধুও ওখান থেকে অনেকটা সাহায্য করেছেন। ছোট ভাইকেও সব খোলাসা করে বলে দিয়েছেন। আশ্বাস-অভয়ও তার কাছ থেকে পেয়েছেন।

জামিল সাহেব ক’দিন এসে ফিরে গেছেন ফিরোজ সাহেবের বাসা থেকে। স্বাতী দেখা করেনি। তিনি স্বাতীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিলেন, না চোখের দেখাটিই দেখতে এসেছিলেন তাও স্পষ্ট করে কেউ জানে না এ বাড়ির। তবে স্বাতীর বিদেশ যাওয়ার বিষয়টিতে ও বাড়ির মানুষের কিছুটা সন্দেহ কাজ করায় অনেককেই যেমন জানানো হয়নি, তেমনি জেনে যাননি জামিল সাহেবও। তবু বড় রকমের একটা তোলপাড়ে পাক খেতে খেতে ফিরোজ সাহেব তরিয়ে নিলেন। খরচ তারও হলো। কিন্তু তার বিস্ময়ের কাছে ওসব কিছুই না। ভিসা হয়ে গেলো নির্বিঘেœ। টিকেটও কনফার্ম। নির্দিষ্ট দিনের আয়োজনে ব্যস্ত মিসেস ফিরোজ।

 

(আগামী পর্বে সমাপ্ত। ক্লিক করুন শুক্রবারে)

দীলতাজ রহমান’র গল্প ‘মেঘে ফোটা তারা’ : পর্ব-১

দীলতাজ রহমান’র গল্প ‘মেঘে ফোটা তারা’ : পর্ব-২