পার্থ অগাস্টিন’র কবিতা

ব্যথার কয়েন

আলোর তীব্রতা থেমে গেছে জলপুকুরে
উঠোনে জমা নেই রোদ-রোদ খেল
বৈদ্যুতিক আলো জ্বলতে-জ্বলতে বিবর্ণ দেয়াল
রঙহীন মাটির ভেতর গুনগুনে রব তোলে শুন্যর নামতা।
এ-পাড়ার প্রতিটি দেয়াল, ইস্পাতের মতো আঘাত হানে শরীরে-
রক্ত ও শরীরের মাঝে অবনত ছুটিরঘণ্টা
ছুটি মেলে না, তবুও ছুটি মেলে না।

রোজ, ব্যথার কয়েন ভর্তি মেইল-ট্রেনটি
ঢুকে পড়ে নিশ্বাসের ভেতর
ব্যক্তিগত সূত্রের মাপকাঠিতে, ফলাফল বারবার গিয়ে থামে শূন্যতায়।

 

মুহুরী নদী

 

নদীর ভেতরে শুয়ে আছে সতেরোটি গোলাপ লাশ।

গতবছর তারা তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলো সমুদ্রে। প্রাণে-প্রাণ মেলাতে।
ঝিনুকের মাংস ভেদে ঢুকে যাওয়া সঙ্গম দৃশ্য কতোটা নিষ্ঠুর, তারা দেখেছিলো।
তারা দেখেছিলো কীভাবে গোপন একটি ঘাঁ ঘাপটি মেরে বসে হাঙরের মুখে হিংস্র নিঃশ্বাস নিয়ে।
সমুদ্রের ভেতরে কীভাবে দাবানলে পুড়ে যায় অজস্র নিষ্পাপ ক্ষুদ্র প্রাণ…

অতঃপর সূর্যের ডানা কেটে কীভাবে পশ্চিমা আকাশ মেলে ধরে অন্ধকার।

আহা! সে কী নিখুঁত দৃশ্য…

এ দৃশ্য শেষে তারা ফেরে বাড়ীর পথে-ই
সরীসৃপের ন্যায় পিচ্ছিল সেতুতে পিছলে পড়ে চলন্ত চার-চাকা।
ধুমড়ে-মুচড়ে টলে পড়ে মুহুরী নদীর গর্ভাগারে। ক্রমে ক্রমে রুদ্ধশ্বাস। মৃত্যুর সম্মুখে যেতে যেতে বলে:

হে নদী, তুমি যদি বৃদ্ধ হও শেষপ্রান্তে রবে ক্রমে ক্রমে, সতেরোটি গোলাপ লাশ।

 

সাইকেল

বাবাকে কোলে নিয়ে, প্রতিদিন সাইকেলটি বাতাসে সাঁতার কাটে
মাঝে-মাঝে আমি আর ছোটো, তার কোলে উঠে ডানা মেলতাম
যদিও আমি দ্যাখি, সাইকেলটি বেঁচে থাকে বাবার নিশ্বাস চুরি করে
এখনো তার কোলে চড়ে আসে আমাদের সংসার। আমাদের আনন্দ লাঠিম।

বাবার মৃত্যুর পর সাইকেলটি আমাদেরকে, বাবার মতো কোলে নেবে একদিন,
আর সাথে টানবে বাবার প্রস্থান ও এক মকর জাতকের ছায়া…

রাতের আয়ু বাড়তে-বাড়তে ভাবি, বাবার আয়ুর চেয়ে সাইকেলের আয়ু ঢের বেশি