ওয়ান নিউজ ঈদ আয়োজনে ছয় কবির কবিতা

 

জা মি ল  জা হা ঙ্গী র
শিশিরের শিরদাঁড়া

সকাল দেরিতে আসে কেননা ঘুমাই পরে, ঘুম ডেকে আনি
নিজে নিজে আসে না বলে ওকে আনতে হয় কাউকে পাঠিয়ে
আজকাল দূতেরা বড্ড জ্বালাতন করছে সময় ও সংবাদে
রাতগুলো তাই দীর্ঘ তালগাছ শহরের ছাদে ও চাতালে শোয়া

কেটি পেরি দাঁত মেজে দিয়ে যাও আগামীকাল ডেটিংয়ে যাবো
যুবতীর অন্তর্বাস থেকে সুগন্ধি ঝরলে আমি কী করবো বলে দাও
সেলিব্রেশন সন্ধ্যায় আমাকে ইচ্ছেমতো খুঁচিয়েছো আপাদমস্তক
এখন প্রতিটি ফুলকেই রজঃস্বলা পত্রগন্ধী পাথরকুচি লাগে

আমার জানালার ওপাশে কাকের বাড়ি পেরুলে তারের আকাশ
তারপর এক গৃহিণীর ঘরকন্না, শুকোতে দেয়া আগুন যৌবন
রেলিং রমনীর দোল খাওয়া চুলের উজ্জ্বলতা ক্রমান্বয়ে বাড়ে
আমার গোপন  গোডাউনে তখন অবিরাম চুনকাম চলে

হ্যালি বেরি প্লিজ কাউকে বোলো না অন্ধকারে আমি কী করেছি
আলো আমাকে ফেরেশতা বানালেও অন্ধকারে আমি শয়তান
চুপি চুপি কদমের রেণুগুলো মেখে তুমি ঠোঁট এগিয়ে দিলে
আমি কী বসে বসে কনে আঙুল চুষবো ঘি মধু মেখে !

বাদামি বউ এসো স্ট্রিপের বাসর ভেঙ্গে ধোঁয়া ধোঁয়া কু-লী
এসো পল্লবিত প্রান্তর আজ নগ্ন নৃত্য হবে সাপেদের সাথে
চোখের সাঁতার থেকে তুলে নিতে সব জেলেদের জাল একা একা
আমাদের চারপাশ থেকে শিশিরেরা শিরদাঁড়া মেলে দাঁড়াবে
মন্দাকিনী বিছানায় পাশ বালিশের চেয়ে তুমি সবল নও
তবু এতো তুলো যৌতুক চেয়ে বসেছো যে দিলেই দেউলিয়া
আর আমি নিঃস্ব হয়ে সর্বস্ব পাতাল পেতে রেখেছি
তোমার চোখ তাকেও বড় করে দেখতে গিয়ে কিছুই দেখেনি।

 

পা র্থ  অ গা স্টি ন
দ্যা থিউরি অব্ লাইফ

একটি অমল বাগান তৈরির দায়িত্ব
দিয়েছিলাম এক বৃদ্ধ লোককে।
বাগান জুড়ে যেনো প্রতিদিন শস্যদানার
অঙ্কুরোদগম হয়;
যেন ঘুরে বেড়ায় জলফড়িঙ-
কাটা কস্পাসের মতো একই বৃত্তে লাট খায়
ফুলের সুবাসে…

চারু বাগান জুড়ে যেনো উড়ে উড়ে যায় অজস্র
কামনার তীর;
এফোঁড়-ওফোঁড় করে তরুণী হৃদপিণ্ড,দ্বিধা হয়
প্রেমের পারদ।

প্রাণের মিছিলে যে শাস্ত্র ভর করে-তার
জন্মকুষ্ঠি ভুলে,
বৃদ্ধকে বারণ করেছিলাম
পতঙ্গদের বিষ ছুড়ে না দিতে।

অতঃপর,দীর্ঘ বুনট শেষে ভরা শ্রাবণী পূর্ণিমায়-
বৃদ্ধ তার বুড়ো হাতের ভেলকি দেখালো…

আহা অমল বাগান!আহা প্রেম!আহা প্রাণের
দোলা!

গতির তৃতীয় সূত্র কপচে
বুড়ো লোক-
একটি কফিন বানিয়ে রাখলো।

 

সৈ য় দ  এ না মু ল  তা জ
ফ্লোরেন্স নাইটেংগেল

গতকাল রাত থেকে রাইফেলটাকে ভায়োলিন বানিয়ে বাজাচ্ছি তো বাজাচ্ছিই! ভয় পাচ্ছো?
ভালোবাসিতে জানি না বলে ট্রেনিংএ শেখানো হয়েছে বার বার
‘ফিংগার অাউট অফ ট্রেগার’
‘ফিংগার অাউট অফ ট্রেগার’— যদিও, মন অাঙুলের দাস নয়!

মানুষ জানে— সৈনিক মরে গেলে বসন্তের পাখিরা একরাত একঘরে শুয়ে শুয়ে কেঁদে ফেরে নীড়ে;
কোনো কোনো পাখি শ্মশানে, কোনো কোনো পাখি কবরে।
যে নারী একদা সৈনিকের চিঠিগুলো জমাতে জমাতে বরফ হয়ে উঠেছিলো, সে ফেরে না।
যে নারী একদা সন্তান সন্তান করে সারাদিন সারারাত চিৎকার করতো, সে ফেরে না।
সৈনিকঘরে অাসলে চিরন্তন কেউই ফেরে না!

যে ফেরে, সে ফ্লোরেন্স নাইটেংগেল— দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প।

 

এ না ম  রা জু
আমি ও ঈশ্বর

নতুন সকালে ঈশ্বর প্রায়ই আমাকে ডেকে দেন!
ঘুম ছেড়ে উঠে প্রিয়তমার হাত ধরে
ভোরের শরীরে হাঁটাচলা করি-
তিনি, আমি ও সে!
পরস্পর প্রশ্নবাণে জর্জরিত হই, আর ভোরের আবির মেখে নিই
গায়ে, মুখে, চোখে; মনের গভীরে গড়ে তুলি নতুন এক মন।
প্রতিদিনের খররোদে পোড়া ডায়াবেটিস রোগীর মতো নুয়ে পড়া
দেহ শক্তি পায়, মন ভালো হয়ে যায়।

এক নতুন সকালে নদীর তীর ধরে চলতে থাকি!
চলতে চলতে গ্রামের পর গ্রাম পেরিয়ে
পৌঁছে যাই আমাজানের প্রতীকী কোনো এক গাঁয়।
হঠাৎ দস্যূর দল নিঃশব্দে এসে অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে
প্রিয়তমা তখন কাতর বাঁচতে, আর আমি চিৎকার করতে থাকি
বারবার বলতে থাকি-  ইজ্জত হরণ! সে পাপ, মহাপাপ!
লোনা জলে ধুয়ে যাওয়া আমার চোখ, বেইজকাটা স্পিকারের মতো আমার কণ্ঠ
সবই তাদের দৃষ্টি ও শ্রাব্যতার সীমানায় প্রতিফলিত হয়!
অথচ নিস্তার পায় না প্রিয়তমা।

ঈশ্বরও আমার হাত ছেড়ে ধীরে ধীরে নদীতে, নদীয় থেকে সাগরে
মিশে চলে যায়।

 

 

ম ম তা  নূ র
ভালবাসার চাদর হবো

যদি চাও স্বপ্ন হবো
দূর পাহাড়ে উড়ে ঘুরে
মেঘের ডানায় ভেসে ভেসে
ভালবাসার চাদর হবো।

যদি চাও উষ্ম ঠোঁটে
আলতো ছোয়ায়
তোমার-আমার এই পৃথিবী
প্রেম-পরশে ভরিয়ে দেবো,
নাগরিক এই কোলাহলের
ব্যস্ততাকে সরিয়ে দূরে
তুমি আমি ছন্দ হব।

যদি চাও হৃদয় মাঝে
হারিয়ে যাবো, ছবি হবো
তোমার ঘুমের দেশে আমি-
পরী হব
স্বপ্ন চোখে
নীল বিছানো রাতে দেখো
জোসনা হয়ে থাকবো পাশে।

যদি চাও-
স্বপ্ন হবো, ভালবাসার চাদর হবো।

 

শা হি দু র  র হ মা ন
সর্বহারা

আমরা হাটছি-
গ্রামের পথ পার হয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে
সরু রাস্তা, দু’পাশে ফসলের হাতছানি।

আমরা হাটছি-
ঘুট ঘুটে অন্ধকার, সবুজ না ধূসর বোঝার উপায় নেই।
মাঝে মাঝে হাওয়া নামক তমস্বিনী গায়ে দোলা দেয়।
আকাশে মেঘের লুকোচুরি খেলাতে হালকা আলোর পরশ
তবুও বোঝার উপায় নেই ‘আমি কে, কে আমার!’
মনে ভাবলাম এত চেনারইবা কি দরকার!
কমরেড তো চেনেন!

একদিন কমরেডকে প্রশ্ন করেছিলাম-
দাদা, শাসকের সাথে সর্ম্পক রেখে শোষিতদের শোষণ করা
কোন সংগ্রাম, কোন বিপ্লব?
দাদা বললেন নতুন বিপ্লবীদের এত প্রশ্ন করতে নেই,
দেখে শিখতে হয়।
আজ রাতেই একটা শত্রু খতম হবে, ব্যক্তি শত্রু নয়, শ্রেণি শত্রু।
প্রশ্ন করেছিলাম-
বিপ্লবী হবার জন্য হত্যা করা কি জরুরি?
ধর্মের আদালত মেনে নেবে কি এসব?

ধমকের সুরে কমরেডের উল্টো প্রশ্নের সুরে বেজেছিল-
বিপ্লবী পতাকায় বিপ্লবী হবি কি করে!