sako

বর্ষা-শরতের সাঁকোতে

মোফরাদ হোসেন: আজ হাট নেই, বার নেই; বেলা চলে যাওয়ার তাড়া নেই। গঞ্জের কাবিল কর্মঠ ছেলেটার আজ কাজ নেই। খাল পাড়ে গ্রামীণ বন, কাশফুল নিকুঞ্জ; এপিঠ-ওপিঠ। হেলে পড়া নারকেল গাছটায় সে বসে রয়; ভেজা হয়নি তার শেষ বরষায়।

এই শরৎ এ অবেলায় নামছে ধুসর মেঘমালা। এখানে তার নেই, বেতার নেই; নেই বেঁধে রাখা তড়িৎ; তবে দূরে জোড়া তাল গাছের ফাকা দিয়ে দেখা যায় নীল আলোর জমিনের সাথে চুম্বন। সে তড়িৎ বাধাহীন; নি:সংকোচ।এখানে হয়না পারাপার চিঠি, চিরকুট বা বার্তা, রঙ মাখা যন্ত্রে; তবে সাঁকো পারাপার হয় বৈকি। সেই সাঁকো বড়ই অদ্ভুত। দুজন দুই দিক থেকে উঠলেই তারা কাছে চলে আসে; আসতেই হয়।

হেলে পড়া নারকেল গাছটার গা ঘেঁসে জমিন জোড়া দিয়েছে সেই সাঁকো। শালুকে ছেঁয়ে যাওয়া তার তল।
বাতাস বইতে শুরু করেছে। খালের উপর সরু ডালে দোল খেয়ে যায় নীল মাছরাঙ্গা। সরে সরে যাচ্ছে কাশবন। ধুসর মেঘটা আসছে এগিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে; দুই-এক ফোঁটা পানি পড়ে মিলিয়ে যাচ্ছে জলতরঙ্গ হয়ে। সোনা, কোলা ব্যাঙদের লাফ-ঝাপ,ডাক বাড়-বাড়ন্ত।

ধরে আসা চোখের দৃষ্টি দিগন্তে ছেলেটার।ধুসর মেঘ আর সাদা কাশফুলের মাঝে চাতকের নন্দন নৃত্য। সেই ধুসর-সাদা পটভূমিতে ছেদ ফেলেছে নীল রঙের দ্যুতি। তাঁতে বোনা নীল কাপড়ে কৃষ্ণকলি নন্দীনি দ্রুত পায়ে উঠছে সাঁকোটায় উল্টদিক থেকে।

ছেলেটা এখন ঠিক সাঁকোটার মাঝখানে। নিভু নিভু আলোতে ফুটতে চায় শালুকের ঝাঁক। বর্ষা নামছে অসময়ে; খুব জোরে…।